ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত বেরোবির শিক্ষার্থীরা


Published: 2017-07-30 18:12:58 BdST, Updated: 2017-09-20 18:56:37 BdST

বেরোবি লাইভ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৯ বছরেও শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের তেমন সুযোগ সুবিধা গড়ে উঠেনি। ক্যাম্পাসে ওয়াইফাই সংযোগ না থাকায় ও সাইবার সেন্টার সীমিত আকারের হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের স্বাভাবিক ব্যবহার করতে পারছে না। এতে তথ্য প্রযুক্তির পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বিগত সময়ে কয়েক দফায় ক্যাম্পাসকে ওয়াইফাই এর আওতাধীন করার পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে নানান সমস্যায় জর্জরিত সীমিত আকারের সাইবার সেন্টারই শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের মুল কেন্দ্রস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাইবার সেন্টার শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সাইবার সেন্টার সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীকে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে সেখানে ২৮ টি কম্পিউটার রাখা হয়েছে। যার ৩ টি বিকল। শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ৫ দিন। সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টা পযর্ন্ত চলে বিভিন্ন বিভাগের ল্যাব ক্লাস। দুপুর ১ টা হতে বিকেল ৫ পযর্ন্ত সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার সেন্টার উন্মক্ত থাকে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী ১ ঘন্টা করে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন গড়ে ১০০-১১০ জন শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে থাকে।

প্রায় নয় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিষ্ঠিত সাইবার সেন্টারটির জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি কক্ষ। প্রতিষ্ঠার ৯ বছরেও নির্মাণ হয়নি কোনো স্বতন্ত্র ভবন। পর্যাপ্ত জনবল, যথেষ্ট ইক্যুপমেন্ট না থাকায় সাইবার সেন্টারটি থেকে পযার্প্ত ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত সময়ের কারণ জানতে চাইলে সাইবার সেন্টারের নেটওয়ার্ক এ্যাডমিনিস্ট্রেটর আতিকুর রহমান মিলন বলেন,  ‘ যেসব বিভাগের কম্পিউটার ল্যাব নেই তারা এখানে ল্যাব ক্লাস করে থাকে। আইসিটি বিষয়ক বিভিন্ন প্রোগ্রামের ক্লাস, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি ও  রেজিস্ট্রেশন কার্ড তৈরিসহ নানা কারণে সাইবার সেন্টারটি ব্যস্ত থাকে। এছাড়া সাইবার সেন্টারটি মডেম এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকি সাইবারে ওয়াইফাই ব্যবস্থা না থাকায় ।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টার দিকে সাইবার সেন্টারে ইন্টারনেট ব্যবহার করছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রুম্মান। তিনি জানান, ‘একজন শিক্ষার্থী মাত্র ১ ঘন্টা সময় পেয়ে থাকে। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প কিছু থাকে না। নেটের গতি অত্যন্ত স্লো হওয়ায় ভালোভাবে কাজ করা সম্ভব হয়না।’

সাইবারে নেট ব্যবহার করতে আসা অনেক শিক্ষার্থী ইন্টারনেট চাল, কম্পিউটার সমস্যা, পর্যাপ্ত সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের  শিক্ষার্থী রেজাউল জানান, এখানে নেট কানেকশন খুবই ধীরগতির। মাঝে মাঝে পাওয়ার বন্ধ হয়ে যায়। সাইবারে ওয়াইফাই ব্যবস্থা নাই, মাঝে মাঝে ইন্টারনেট কানেকশনও পাওয়া যায় না। এছাড়াও বাংলা টাইপিং এর জন্য সফটওয়ার, ডাউনলোড ধীরগতি এবং অন্যান্য সমস্যার কথাও জানান একাধিক শিক্ষার্থী।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, “শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পুরো ক্যাম্পাস ওয়াইফাই এর আওতাধীন করা প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সেন্টারটিও আপডেট করার কাজ চলছে। তবে অতি তাড়াতাড়ি এই ওয়াইফাই ও সাইবার সেন্টারের সমস্যা সমাধান করব।

 

ঢাকা, ৩০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।