তিন পাণ্ডা


Published: 2017-05-05 22:10:26 BdST, Updated: 2017-11-20 11:40:47 BdST

 

 

 

মুস্তাক মুহাম্মদ: তিন পাণ্ডা (১ম খণ্ড) পদ্মনাভ অধিকারীর কিশোর গল্পগ্রন্থ। গল্পের কেন্দ্রী চরিত্র পিতৃ-মাতৃহারা তিন ভিন্ন মতালম্বী কিন্তু অসাম্পদায়িক- মননের ধর্ম যাদের এক,কাকাদের আশ্রিত কিশোরত্রয়- রজত, রবার্ট, রাকিব এবং তাদের পোষা প্রাণী কাক জোড়া টুটু -পুটু ,বানর মন্টু এবং কুকুর মদন।

প্রতিবাদী তিন কিশোর আশ্রয়হীন হয়ে জীবিকার সন্ধানে শহরতলীতে আসে।এখানে মাদক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী সরকারী জমি দখলকারী মোটা একজনকে ¯œান করাচ্ছে দুই কিশোর কিন্তু পান থেকে চুন খসলেই গালিগালাজ অকথ্য নির্যাতন ভোগ করে তারা। চাঁদাবাজ আর কিশোরদের কথাপোকথনে হাস্যরসাত্নক দৃশ্য পাওয়া যায় যেমন - “হ্যাঁ ,তুমিতো চিনির বস্তা।তোমাকে পচানো সস্তা।কি বল্লি ; চিনির বস্তা ?ধরতে পারলে আছঢ়ে মারবো।”(পৃষ্ঠা নং ১৪ ,লাইন ৭ -৮) শেষে কাক জোড়ার সহায়তায় কুপেকাত হয় মাস্তান।

সমাজের অসঙ্গতির চিত্র এঁকেছেন গাল্পিক যেমন রাতে কলেজ পড়–য়া যুবক- যুবতীসহ দেহ পসারিণী কন্যারা পার্কে জোড়ায় জোড়ায় নিষিদ্ধ ফ’র্তি করে।পুলিশ এসে তাদের ধরে হেনস্থ করে আবার পয়সার বিনিময়ে তা বৈধ করে।পার্কে রাতের দৃশ্য এবং পুলিশের চরিত্র চিত্রায়ণে গাল্পিক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। পুলিশের বরাতে তিনি লিখেছেন-“পুলিশ বলে, তোর বাপ -মা ট্যাকা দেয় না? তয় তুই অকাম করোস ক্যা? ভাগ দিবি না মানে ?দুই পুলিশ মেয়েটাকে জাপটে ধরে হাত থেকে টাকা নিয়ে চলে যায়।কোর্টের মাঠে১০ কেজি চিনি বস্তাকের জন্য অসহায় মহিলা পুলিশকে ঘুষ দিতে না পারায় হাজতে যেতে হচ্ছে(পৃ:১৮ লাইন:১থেকে ৩) ” এবং জনতার মুখ দিয়ে বের করেছেন “পেটের দায়ে দশ কেজি চিনির জন্য পুলিশের হাতে এমন মার! দেশে যারা কোটি কোটি টাকপর মাল বøাক করছে,তাদের কিছু হয় না।”(পৃ:১৮ লাইন;২২থেকে ২৪) এইসব চরিত্রর পাশাপাশি দারোগা মামুনের মতো সৎ কর্মনিষ্ঠ প্রভাবশালীদের হুমকি সত্বেও দায়িত্বে অবিচল প্রশাসনিক কর্মচারী পাওয়া যায়।

যারা তিন পাকে পুরস্কার দিতেও প্রস্তুত।ভাল কাজের জন্য নেতারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। মিডিয়াও তাদের সাথে যোগ দেয়।পাতি নেতারা হুমকার গর্জন করে। জনগনকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়। তিন পাণ্ডান পোষা কাক জোড়াকে মারতে পুরস্কার ঘোষণা করেন (কাজের চেয়ে অকাজে তারা তৎপর)। মাঝে মাঝে নেতাদের কথায় লাগাম থাকে না । কোন লজিক থাকে না । অবান্তর কথায় তারা পটু।নেতা ও তার সাঙ্গ- পাঙ্গাদের দৌরাত্বে চরম সীমায় অবস্থান করে।এইসব অসঙ্গতির জীবন্ত চিত্র অংকনে গল্পকার সিদ্ধহস্ত কর্মঠ।

কোর্ট ন্যায় বিচারের আশ্রয় স্থল কিন্তু সেখানে দুর্নীতি আরও বেশি। কোর্টে মাঠে মাজন বিক্রেতাদের চাঁদা দিতে হয় কর্তাদের পোষা কালুনামক গাঁজা - হিরোইন খোরদের।যাদের কুকুর ও কাক ক্ষত করে। এক ভিক্ষারী বলে“ দ্যাখ শালারা দ্যাখ, কেমন লাগে ।আমার ভিক্ষে করা টাকা কেড়ে নিয়ে হেরোইন খাইলি।আর আমি না খায়ে দিন কাটালাম। হে খোদা , তুমি বড়ই মেহেরবান।”(পৃ:২৭ লাইন:১৭-১৯) দুর্বলদের যখন করার কিছু তাকে না তারা ঈশ্বরের কাছে বিচার দেয় ।

ঈশ্বর প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে তাদের শাস্তি দেয়(যেহেতু মানুষ প্রভাবশালীর করগত)।তিন পাণ্ডা ঘন্টা ও মন্টা নামক দুই পকেট মারদেরও ভালোর পথে ফিরিয়ে আনে।কিন্ত প্রতিবাদীর স্থান কখনো এক জায়গায় হয় না।অপরাধীরা অস্বস্তিতে থাকে তাদের নিয়ে। তবে তারা যেখানেই যায় সেখানেই চলে তাদের কাজ তেমনি শহর ছেড়ে গ্রাম্য এক পোড়ো বাড়িতে আশ্রয় নেয় তারা । সেখানে তারা ভেজাল কারবারির কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয় প্রাণীদের সহাযতায়।

তিন পাণ্ডা (১ম খণ্ড) এর গল্পগুলো বিষয় বস্তুতে আমাদের চেনাজানা । আমাদের যাপিত জীবনে যা বড়ই অনিষ্টকর। কিশোর উপযোগী করে রচনা করে- কিশোরদের আনন্দের বিষয় করে তুলেছেন গল্পকার । কিন্তু গল্পের অন্তরালে আমরা বর্তমান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক,রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিখুঁত চিত্র পায়।যা জোনাথন সুইফট(১৬৬৭-১৭৪৫) এর “গালিভারস ট্র্যাভেল” কে মনে করিয়ে দেয়।কিশোর উপযোগী কিন্তু সমকালিন সমাজ ব্যবস্থার অকাট্য দলিল।

যা বিষয় বস্তুতে আমাদের জাতীয় জীবনে ভাবনা মাথা ব্যথার কারণ তাই আলোচ্য। বইটি সুখপাঠ্য এবং জাতীয় সমস্যা ও প্রতিকারের পথ বাতলাবে এই প্রত্যাশা। ৪৮ পৃষ্ঠার বইটির প্রকাশক বিভাস পাবলিকেশনের রামশংকর দেবনাথ। প্রকাশ কাল:ফেব্র‍ুয়ারি ২০১৬, মূল্য;১০০টাকা মাত্র, প্রচ্ছদ:ইন্দ্রজীৎ অধিকারী।
তারিখ:১২/০২/২০১৬

 

যোগাযোগ
মুস্তাক মুহাম্মদ
কারুকাজ ,কেশবলাল রোড,যশোর ৭৪০০।
মোবাইল নং ০১৯১৬৮৮৩৪৩৮

 

ঢাকা, ০৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

 

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।