হিন্দু ধর্ম ত্যাগ, নির্যাতনের পরও ইসলামে অবিচল ছাত্রী!


Published: 2017-07-17 01:48:54 BdST, Updated: 2017-07-25 12:31:14 BdST

বরিশাল লাইভ : প্রেম মানে না কোন জাতি ধর্ম। ভালোবাসা চিরন্তন। আর সেই ভালোবাসার টানেই নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছেন ছাত্রীকে। তাও করা হয়েছে শিকলে বেঁধে। হিন্দু ধর্ম ছেড়ে মুসলমান ছেলেকে বিয়ে করায় ছাত্রীর ওপর নেমে এসেছে এমন অমানুষিক নির্যাতন। তাকে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে কয়েকদফা নির্যাতন করা হয়। তবুও ইসলাম ধর্মের প্রতি অবিচল থাকে ওই ছাত্রী। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর নাম মরিময় আক্তার। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আগৈলঝাড়ার কোদালধোয়ার বাড়িতে নিয়ে আবারো তার ওপর চালানো হয় বর্বরতা। শিকলে বেঁধে চালানো হয় নির্যাতন।

স্থানীয়রা জানায়, চলতি বছরের ২২ মার্চ সাধন গোস্বামীর মেয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী বৃষ্টি গোস্বামী গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর কোর্টে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মরিয়ম আক্তার রাখেন। প্রেমের কারণে ২৩ মার্চ লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার সিরামপুর গ্রামের মো. মোস্তফা কাজীর ছেলে আবুল কাশেমকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন।

২০ জুন মরিয়ম তার স্বামী আবুল কাশেমের কাছে চলে গেলে ২৭ জুন মরিয়মের মা অঞ্জলী গোস্বামী টঙ্গী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অঞ্জলী গোস্বামী সেই জিডিতে মরিয়মের (বৃষ্টি গোস্বামী) বয়স ১৮ বছরের ২ মাস আগে বিয়ে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এরপর টঙ্গী থানার এসআই চন্দন দে মরিয়মকে উদ্ধার করে ছাত্রীর মা অঞ্জলী গোস্বামীর কাছে দেন।

বাসায় নিয়ে মা অঞ্জলী গোস্বামী মরিয়মকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার কথা বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় মরিয়মকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। স্বামী আবুল কাশেমের কাছে যেতে না দেয়ায় মরিয়ম কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

গত ১০ জুলাই মা অঞ্জলী গোস্বামী তার বাবার বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কোদালধোয়া গ্রামে মহানন্দ চক্রবর্তীর বাড়িতে মরিয়মকে নিয়ে আসেন। ১১ জুলাই মরিয়মকে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার জন্য মা অঞ্জলী গোস্বামী মারধর করেন। এতে মরিয়ম কোদালধোয়া থেকে পালিয়ে বাকাল বাজারের ব্যবসায়ী আবদুর রহিমের কাছে আশ্রয় চান। পরে পুলিশকে সংবাদ দিলে এএসআই মিন্টুলাল হীরা তাকে উদ্ধার করে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

কিছু সুস্থ হলে মরিয়মকে নানা বাড়িতে নিয়ে শিকলে বেঁধে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার জন্য আবারো শারীরিক নির্যাতন করা হয়। কিন্তু ওই ছাত্রী ইসলাম ধর্মের প্রতি অবিচল থাকে। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ওই বাড়িতে গেলে ঘরে ঢোকার আগে পায়ের শিকল খুলে রাখা হয়। এমন অভিযোগ করে ওই ছাত্রী। নির্যাতনের শিকার মরিয়ম জানান, স্বামী আবুল কাশেমের কাছে যেতে না পারলে সে আত্মহত্যা করবে।

এদিকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রীর মা অঞ্জলী গোস্বামী সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার বয়স হয়নি। আমি এসব মানি না। তাকে ভুল বোঝানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


ঢাকা, ১৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।