ভালোবেসে পালিয়ে নির্মমতায় প্রাণ গেল ছাত্রের!


Published: 2017-07-17 03:10:15 BdST, Updated: 2017-09-23 06:22:20 BdST

পটুয়াখালী লাইভ : ভালোবেসে পালিয়ে না ফেরার দেশে চলে যেতে হয়েছে তাকে। ঘাতকদের নির্মমতায় ঘর বাঁধার স্বপ্ন পূরণ হল না তার। বলছি একটি স্বপ্নের অপমৃত্যুর কথা। ওই স্বপ্নের নায়ক পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন মৌডুবি এলাকার উত্তর কাজীকান্দা গ্রামের বাদশা শিকদারের ছেলে ওই ছেলের নাম মহব্বত শিকদার। সে মৌডুবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র ছিল।

শনিবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। রোববার ভোরে ঘর থেকে শতগজ দূরে গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থার তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয়রা কয়েকজন জানায়, মৌডুবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মহব্বতের সঙ্গে ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্বর্ণা আক্তার নামে এক ছাত্রীর প্রেমের সর্ম্পক চলে আসছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই ওই ছাত্রী শুক্রবার গভীর রাতে মহব্বতের সঙ্গে পালিয়ে যায়।

পরে শনিবার রাত ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী তক্তাবুনিয়া গ্রাম থেকে তাদেরকে উদ্ধার হয়। দু’জনকে নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে দক্ষিণ কাজিকান্দা গ্রামের রাসেল হাওলাদার বাড়ির অঙ্গিনায়। শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক শেষ হয়।

জানা গেছে, উদ্ধারের জন্য দলীয় অনেক নেতাকর্মী বাইক (মটরসাইকেল) নিয়ে ঘুরেছেন। তারা নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করেছেন। তাদেরকে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে খরচ দিতে হবে। সে অনুযায়ী ছেলের পরিবারকে ৫০ হাজার এবং মেয়ের পরিবার পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধার্যকৃত টাকা দিয়ে মেয়ে রাতেই তার পরিবারের সঙ্গে ঘরে ফেরেন।

মহব্বতের দাদী আঞ্জুমানারা বেগম বলেন, সালিশ বৈঠকে তার নাতীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। টাকা পরিশোধ না করে তিনি নাতীকে রাত ১২টা দিকে বৈঠক থেকে নিয়ে আসেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ১০-১২ জন লোক তার ঘরে ঢুকে। একপর্যায়ে তার মুখ চেপে নাতীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

অনেক খোঁজাখুজির পর নাতীর লাশ গাছের সঙ্গে ঝুঁলতে দেখেন। তার দাবী নাতীকে হত্যার করা হয়েছে।

মহব্বতের বাবা বাদশা শিকদার মোবাইলে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি মামলা করব।

এদিকে ওই ছাত্রীর বড় বোন জানান, তার বোনকে ওই ছেলে তাবিজ করেছে। সে জন্যই শুক্রবার রাতের কোন এক মুহুর্তে সে ঘর পালিয়েছিল। আওয়ামী লীগের লোকজন পরের দিন দুজনকে উদ্ধার করে। রাসেল হাওলাদারের বাড়িতে সালিশ হয়েছে। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য সালিশে তার পরিবারকে জরিমানা করা হয়েছিল। টাকা দিয়েই তার বোন ঘরে ফিরেছে। ওই ঘটনার পর ছেলেটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে তিনি শুনেছেন।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি সামছুল আরেফীন বলেন, এক স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


ঢাকা, ১৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।