নোবিপ্রবি প্রক্টরের কাণ্ড : জুমার নামাজের সময় পরীক্ষা!


Published: 2017-08-28 00:28:36 BdST, Updated: 2017-11-20 11:30:18 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুমার নামাজের সময় ইংরেজি পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের আপত্তি সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইংরেজি বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মুশফিকুর রহমান ওই পরীক্ষা নিয়েছেন। এনিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। জুমার নামাজের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি পরীক্ষা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে ওই শিক্ষকের দাবি বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হয়েছে। জুমার নামাজ নষ্ট করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন। নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও তিনি চিঠি দিয়েছেন। তার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি ওই শিক্ষকের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নোবিপ্রবির প্রক্টর ও এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মুশফিকুর রহমান গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ইংরেজি বিভাগের একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ল্যাব পরীক্ষা নিয়েছেন। ৫০ মিনিটের ওই পরীক্ষা শুরু হয় শুক্রবার জুমার দিনে ১২.৪৫ মিনিটে। শেষ হয় ১.৩৫ মিনিটে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজ শুরু হয় ১.৩০ মিনিটে। কিন্তু ওই সময়ে পরীক্ষা নেয়ায় শিক্ষার্থীরা জুমার নামাজে অংশ নিতে পারেননি। ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদের কেউই সেদিন জুমার নামাজ পড়তে পারেননি। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষকের দাবি ওই সময়ে পরীক্ষা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে জুমার নামাজকে গুরুত্বহীন করা হয়েছে। মুসলিম দেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে অপমাণিত করেছেন ওই শিক্ষক। কী এমন তাড়াহুড়ো ছিল যে ওই সময়েই পরীক্ষা নিতে হবে। সকালে অথবা বিকেলেও পরীক্ষা নেয়া যেত। হিসেব করে জুমার সময়েই কেন পরীক্ষা নেয়া হল। এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন মহল বিস্মিত বলে উল্লেখ করেন তারা। এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেছেন তারা।

এদিকে প্রক্টর ও ইংরেজি বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মুশফিকুর রহমান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে হয়নি। আমিও মুসলমান, আমি চাই না কেউ জুমার নামাজ মিস করুক। শুক্রবার পরীক্ষার সময় দেয়া হয়েছিল দুপুর ১২টায়। কিন্তু সেদিন রাস্তায় যানজট থাকায় ক্যাম্পাসে পৌঁছতে দেরি হয়েছে আমার। একারণে ১২.৪৫ মিনিটে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হয়েছে ১.৩৫ মিনিটে। কেউ যদি ওই সময়ের মধ্যে নামাজে যেতে চাইতো তাহলে তাকে না যেতে দেয়ার কোন কারণ নেই। ওই বিষয়টি নিয়ে এখন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এবিষয়ে নোবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, অামিও মুসলমান। আমিও সেদিন জুমার নামাজ পড়েছি। সেদিন সেন্ট্রাল মসজিদে দেড়টার পরে জুমার নামাজ শুরু হয়েছে। কারো ইচ্ছা থাকলে নামাজ পড়তে পারতো। এছাড়া এনিয়ে কোন শিক্ষার্থী আমার কাছে কোন অভিযোগও করেনি। জুমার নামাজ মিস হলে যোহর পড়া যায়। এতে দোষের কিছু নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।


ঢাকা, ২৮ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।