সেই ছাত্রীকে এক রাতের জন্য ১০ হাজারে চুক্তি করেন ইভান!


Published: 2017-07-15 13:12:48 BdST, Updated: 2017-09-26 23:59:43 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : জোরপূর্বক নয় সেচ্ছায় ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে এমন দাবি করেছেন বনানীর আলোচিত ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত বড়লোকের ছেলে বাহাউদ্দিন ইভান। এক রাতের জন্য ১০ হাজার টাকা ‘মৌখিক চুক্তিতে’ ইভানের বনানীর বাসায় আসে সেই ছাত্রী।

ঢাকার হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য দেন ইভান। জবানবন্দিতে ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ও ওই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইভান বলেন, খুব বেশি দিনের সম্পর্ক নয় ওই ছাত্রীর সঙ্গে। ঘটনার আগে দুয়েকবার ওই ছাত্রীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে ইভানের।

ঘটনার ওই রাতে ছাত্রীকে জোর করে কোনো কিছু করেননি ইভান। এক রাতের জন্য বাসায় এসে থাকতে ওই ছাত্রীকে ১০ হাজার টাকায় কন্ট্রাক্ট (মৌখিকভাবে) করা হয়। আর সে অনুসারেই ওই ছাত্রী ঘটনার রাতে ইভানের বাসায় আসেন। গভীর রাতে ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয় দু’জনের সম্মতিতেই।

চার দিনের রিমান্ড শেষে এদিন ইভানকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

জবানবন্দিতে ইভান জানান, মৌখিক কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে ওই ছাত্রী ইভানের বাসায় এলেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর গভীর রাতে ওই ছাত্রী তার এক বন্ধুকে বাসায় আসতে বলেন। এ বিষয়টি ইভানের পছন্দ হয়নি। এতে ইভানের পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে যেতে পারে।

ফলে ইভান ওই ছাত্রীকে ফোন করে তার বন্ধুকে বাসায় ডাকতে বারণ করেন। কিন্তু ছাত্রী তা শোনেননি। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। ছাত্রী অবাধ্য হলে সম্মানের ভয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন ইভান। ঘটনার সময় ছাত্রীকে কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা মারধর করা হয়নি বলেও আদালতকে জানান ইভান।

একই সঙ্গে ধর্ষণের (সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন) পর তা ভিডিও ধারণের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্তকাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। ৯ জুলাই আসামি বাহাউদ্দিন ইভানের ডিএনএ প্রফাইলিং সংরক্ষণ এবং ওই ছাত্রী ইউরিন ও ব্লাড পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ৭ জুলাই ইভানকে এ মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ৬ জুলাই বিকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় খালার বাড়ি থেকে ইভানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। আর ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষিতা ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থানায় এ মামলাটি করেন। ওই ছাত্রী মডেলিংয়ের সঙ্গেও জড়িত বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বাহাউদ্দিন ইভানের (২৮) সঙ্গে ১১ মাস ধরে ফেসবুকে বন্ধুত্ব হয় ধর্ষিত ছাত্রীর। এ বন্ধুত্বের সূত্র ধরে দু’জনের ঘোরাঘুরি ও দেখা-সাক্ষাৎও হয়। আর এ বন্ধুত্ব থেকেই ৪ মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। ৪ জুলাই ইভান (আসামি) ফোন করে জানায় তার জন্মদিনের কথা। ওই জন্মদিনে সে তাদের সম্পর্কের কথা পরিবারকে জানাবে ও ছাত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেবে।

এরপর ৪ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইভানের বাসায় যান ওই ছাত্রী। বাসায় মা-বাবা কোথায় জানতে চাইলে ইভান বলেন, তারা (মা-বাবা) অসুস্থ, ঘুমিয়ে আছেন। তাদের বিরক্ত করা উচিত হবে না। সকালে পরিচয় করিয়ে দেবে।

বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কোনো আলামত না দেখে ওই ছাত্রী ভয় পান। চলে আসতে চাইলে ইভান তাতে বাধা দেন। ইভান ওই ছাত্রীকে রাতের খাবার ও নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ান।

নেশা করতে রাজি না হলে ইভান ওই ছাত্রীকে বলেন, একদিন খেলে কিছু হবে না। এরপর রাত ১টার দিকে ইভানের ঘরে ওই ছাত্রীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন।


ঢাকা, ১৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।