দুই ছাত্রী ধর্ষণ : সাফাতের প্রতিদিন হাতখরচ দুই লাখ টাকা!


Published: 2017-05-14 01:19:40 BdST, Updated: 2017-09-22 23:00:02 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : বনানীতে হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। রিমান্ডের প্রথম দিনেই তিনি বেশ কিছু অজানা তথ্য দিয়েছেন।

আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত জানান, প্রতি রাতেই তিনি ও তার বন্ধুরা মেয়েদের নিয়ে পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে মেয়েদের ইচ্ছাতেই তাদের নিয়ে আমোদ ফূর্তি করেন। এর জন্য কাড়ি কাড়ি টাকাও ব্যয় করেন তিনি। রাতে বান্ধবীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেছেন সাফাত।

প্রতিদিন তার হাত খরচ লাগে প্রায় দুই লাখ টাকা। কোন কোন দিন এর চেয়েও বেশি টাকা খরচ হয় তার। বাবার কাছে টাকা পয়সা খরচের হিসাবও দিতে হয় না তার।

বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে সাফাত বলেন, সবকিছুই হয়েছে সমঝোতার ভিত্তিতে। তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। এটা দোষের কিছু নয়। কোন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। সবকিছু ঠিকই ছিল তবে কেন তারা তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করা হল তা তার বোধগম্য হচ্ছে না।

এছাড়া ওই ছাত্রীর একজনের সঙ্গে সেদিন রাতে তোলা কিছু অন্তরঙ্গ সেলফিও গোয়েন্দাদের দেখিয়েছেন সাফাত।
সাফাত ও সাদমান সাকিফ দাবি করেছেন সেদিন রাতে ধর্ষণের মত কোন কিছু ঘটেনি। যা হয়েছে আপোসে।

সাফাত জানান, এর আগেও অসংখ্যবার তারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। তেব কখনও কেউ এবিষয়ে অভিযোগ করেনি। বিষয়টা এতদূর যাবে এটা তাদের কল্পনাতেও ছিল না।

সাফাত জানান, তাদের ২০-২৫ জনের বন্ধু গ্রুপ আছে। সময় পেলেই তাদের নিয়ে লংড্রাইভে বের হন তারা। সঙ্গে বান্ধবীদেরও নিয়ে যান। এনিয়ে কখনও কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। যখন যত টাকা লাগে তার বাবার কাছ থেকে নিয়েছেন বাবাও এনিয়ে কোন প্রশ্ন তুলেননি। প্রতিদিন হাত খরচের জন্য বাবা তাকে দুই লাখ টাকা দিতেন বলেই উল্লেখ করেন সাফাত। তিনি বলেন, কখনও এর বেশি টাকার প্রয়োজন হলে আপন জুয়েলার্সের ৮টি শো-রুমে যেকোন একটিতে ফোন করে টাকা আনিয়ে নিতেন। তার বাবা কখনও ওই টাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। গত ০৬ মে বনানী থানায় এবিষয়ে ভিকটিমরা আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম), সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়ি চালক বেলাল ও দেহরক্ষি আবুল কালাম আজাদের নামে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে রয়েছেন সাফাত ও সাদমান সাকিফ।

 

ঢাকা, ১৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।