পার্টিতে সুন্দরী বান্ধবী ও মডেলদের সাপ্লাই দেয় নাঈম আশরাফ!


Published: 2017-05-15 02:13:04 BdST, Updated: 2017-11-20 21:39:49 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : রাজধানীতে হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে আসামিদের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। কিভাবে তারা সুন্দরী মেয়েদের টার্গেট করত। কোথায় কোথায় নিয়ে তাদের মাস্তি ও ফূর্তি করা হত। সুন্দরী বান্ধবী ও উঠতি মডেলদের কে সাপ্লাই দিত। ওই সুন্দরীদের কিভাবে বাছাই করা হত এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ সার্বক্ষণিক দেহরক্ষীবেষ্টিত থাকতো। যাকেই তার ভালো লাগতো তাকেই তিনি কাছে টানতেন। এরজন্য টাকা পয়সা খরচ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব
অপশন তিনি কাজে লাগাতেন। গ্রিণ সিগন্যাল পেলেই রুমপার্টির আয়োজন করা হত। অভিযাজ হোটেলে আগে থেকেই হোটেলে বিশেষ রুম বরাদ্দ করা হত। সেখানে হাইপ্রোফাইল সুন্দরী বান্ধবীদের নিয়ে গিয়ে রাতভর ফূর্তি করা হত। থাকতো ইয়াবা ও সীসার সেবনের আসর। ধোয়ায় আচ্ছন্ন থাকতো পুরো রুম। তবে সাফাতের দাবি ওইসব পারর্টিতে কোন বান্ধবীকে তিনি ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কে জড়াননি। বান্ধবীদের ইচ্ছেতেই তাদের সঙ্গে ফূর্তি করা হত। এনিয়ে কোন কথা উঠেনি কখনও। কারণ বান্ধবীরা জেনে শুনেই ওইসব পার্টিতে তাদের সঙ্গে যোগ দিত। ওইসব পার্টিতে বন্ধুরা মিলে গ্রুপ সেক্সও হত।
নাচানাচি চলত রাতভর। ভোরে তাদের আসর ভাঙতো।
ওইসব পার্টিতে সুন্দরী ছাত্রী ও উঠতি মডেলদের সাপ্লাই দিত নাঈম আশরাফ ওরফে হালিম।

দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সাফাত দ্বিতীয় দিনের রিমান্ডে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সাফাত জানান, এধরণের পার্টি প্রথম নয়। আর এধরনের পার্টিতে কি হত তা জেনেশুনেই বান্ধবীরা সেখানে উপস্থিত থাকতো। তবে রেইন ট্রি হোটেলের ঘটনায় কেন তারা ধর্ষণের অভিযোগ করল তা তার বোধগম্য হচ্ছে না। সেদিন রাতে ওই দুই ছাত্রীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের বিষয়টি তিনি অবলীলায় স্বীকার করেন। তবে সেটাকে কেন ধর্ষণ বলা হচ্ছে এনিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পাল্টা প্রশ্ন করেন। সেদিন অপোসেই ওই ছাত্রীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক হয়েছে তার এমনটাই দাবি করেন সাফাত।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সাফাত বলেন, গুলশান বনানীর কোন কোন হোটেলে প্রতি রাতেই পার্টির আয়োজন করা হত। নির্ধারিত হোটেলে তাদের জন্য ভিআইপি রুম বরাদ্দ করা থাকতো। জন্মদিন ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে রুমপার্টির আয়োজন করা হত। নামিদামি ব্র্যান্ডের মদ ছাড়াও ইয়াবা ও সীসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকতো এসব পার্টি। এসব পার্টিতে প্রকাশ্যে সুন্দরী বান্ধবীদের বেছে নেয়া হত। পরে রাতভর বন্ধুরা মিলে তাদের সঙ্গে ফূর্তি করত।

সাফাত আরো জানান, মূলত নাঈম আশরাফই তাকে সুন্দরী বান্ধবী ও উঠতি মডেলদের সন্ধান দিত। পার্টিতে পরিকল্পিতভাবে তাদের নানা ছলে হাজির করা হত। পরে বিশেষ অফার করে তাদের সঙ্গে ফূর্তির আয়োজনও হত বলে জানিয়েছে সাফাত।

সাফাত বলেন, ২০১৫ সালে নাঈমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। আস্তে আস্তে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়েছে তার। নাঈমের সঙ্গে সাফাতের বাবারও ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। গত ০৬ মে বনানী থানায় এবিষয়ে ভিকটিমরা আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম), সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়ি চালক বেলাল ও দেহরক্ষি আবুল কালাম আজাদের নামে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে রয়েছেন সাফাত ও সাদমান সাকিফ।

 

ঢাকা, ১৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।