পার্টিতে ধর্ষণ : জন্মনিয়ন্ত্রক পিল খাওয়ানো হয় দুই ছাত্রীকে!


Published: 2017-05-17 20:54:31 BdST, Updated: 2017-11-18 19:34:41 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে গণধর্ষণ করেও ক্ষান্ত হয়নি লম্পটরা। ধর্ষণের পর সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম) ওই দুই ছাত্রীকে গর্ভধারণ রোধে জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক পিল খাইয়ে দেন। র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর ভয়াবহ সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা এভাবেই দিয়েছে ধর্ষক সাফাতের ব্যক্তিগত গাড়িচালক বিল্লাল।

বিল্লাল বলে, ভিকটিম দুই ছাত্রীর এক চিকিৎসক বন্ধু পিল খাওয়ার জন্য নিষেধ করায় তাকে মারধর করে ইয়াবা খাওয়ানো হয়। পরে সেই ইয়াবা খাওয়ার ভিডিও ধারণ করে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল। তারপর সাফাত ও নাঈম বলে, এই ঘটনা যদি কাউকে বলিস, তবে ইয়াবার মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেব। তোদের ইয়াবাখোর বানিয়ে দেব।

জন্মনিয়ন্ত্রক পিল খাওয়ানোর পরও ওই দুই ছাত্রীকে আবার ধর্ষণ করা হয়। যে দুটি কক্ষে দুই ছাত্রীকে সাফাত ও নাঈম ধর্ষণ করে তার মাঝখানে একটি ফলস পার্টিশন ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে বিল্লাল ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে।

সেদিন দি রেইনট্রি হোটেলে যা ঘটেছিল পুরো ঘটনা তুলে ধরেন র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। সোমবার রাতে ডিবি পুলিশ গুলশান ১ নম্বর সার্কেল থেকে ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি সাফাতের বডিগার্ড রহমত আলীকে গ্রেফতার করে। তবে বডিগার্ড হিসেবে যোগদানের সময় তার নাম গোপন করেছিল। সে সময় রহমত তার প্রকৃত নাম গোপন করে আবুুল কালাম আজাদ পরিচয়ে কাজে যোগ দেয়।

ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফ সিলেটের যে কোনো সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। গত কয়েক দিনে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনার সময় ধর্ষিত দুই ছাত্রীর দুই বন্ধু তাদের সঙ্গে ছিল। তাদের মধ্যে শাহরিয়ার নামে একজন ছিল চিকিৎসক। সাফাত ও নাঈম দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানোর দায়িত্ব দেয় শাহরিয়ারকে। শাহরিয়ার এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে ইয়াবা খেতে বাধ্য করে তারা। পরে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ধারণ করে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল। এ ঘটনা যদি বাইরে প্রকাশ করে তবে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ারও ভয় দেখানো হয় শাহরিয়ারকে। সেই ভিডিও বিল্লালের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছে বিল্লাল। তবে সেই ভিডিও তার মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। তিনি বলেন, বিল্লালের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভিডিও উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল সেদিনের ঘটনার পুরো বর্ণনা দিয়েছে। সে র‌্যাবকে বলেছে, ঘটনার দিন সাফাতকে নিয়ে সাড়ে ৪টার দিকে দি রেইনট্রি হোটেলে যায়। হোটেলে তাকে রেখে বনানীর আগোরার সামনে থেকে সাফাতের এক মেয়ে বন্ধুকে গাড়িতে উঠায়। তাকে নিয়ে বনানীর ১১ নম্বর যায়। সেখান থেকে সাফাতের আরও এক মেয়ে বন্ধুকে গাড়িতে উঠায় বিল্লাল। দু’জনকে নিয়ে সাড়ে ৬টার দিকে হোটেলে ফেরে সে। সেখানে তখন নাঈমও অবস্থান করছিল। দুই মেয়েকে রেখে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নিচে সে অবস্থান করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশান থেকে ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে নিয়ে হোটেলে যায় বিল্লাল। রাত ১০টার দিকে সাফাতের দুই বান্ধবীকে নিয়ে সে হোটেল ত্যাগ করে। পরে রাত ৪টার দিকে আবার হোটেলে যায়। সাফাত তাকে দুই কক্ষের ফলস পার্টিশন আছে সেখানে থেকে ভিডিও করতে বলে। এ সময় সে সেখান থেকে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। গত ০৬ মে বনানী থানায় এবিষয়ে ভিকটিমরা আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম), সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়ি চালক বেলাল ও দেহরক্ষি আবুল কালাম আজাদের নামে মামলা করেন। ওই মামলায় নাঈম আশরাফ বাদে বাকি চারজন গ্রেফতার হয়েছে।

 

ঢাকা, ১৭ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।