শাবি ছাত্রের মৃত্যু : হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্যকিছু!


Published: 2017-05-17 22:56:40 BdST, Updated: 2017-09-24 12:46:10 BdST

শাবি লাইভ : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎকৌশল বিভাগের ছাত্র মুস্তাইন রাজ্জাক মামুর মৃত্যু নিয়ে রহস্য কাটছে না। কেন তার মৃত্যু হয়েছে এনিয়ে চলছে আলোচনা চুলছেড়া বিশ্লেষণ। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি এটি একটি দুর্ঘটনা এনিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন কিনা সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই তিন কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

যদিও মুস্তাইন আত্মহত্যা করেছেন এমন অকাট্য প্রমাণ পুলিশের কাছে নেই, তাই আত্মহত্যা বিষয়ে পুলিশের সন্দেহ সবচেয়ে কম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আত্মহত্যা করে থাকলে ওই ছাত্রের মাথার পেছনে আঘাত থাকতো না।

সূত্র জানিয়েছে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মাথায় ফেঞ্চুগঞ্জ রেল লাইনের পাশ থেকে মুমুর্ষ অবস্থায় মুস্তাইনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তবে অরেকটি সূত্রের দাবি হাসপাতালে আনার আগেই মুস্তাইনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দ্বিতীয় সূত্রটি প্রথমে এমন কথা বললেও এখন আবার সেটি স্বীকার করতে চাচ্ছেন না।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, মুস্তাইনের ঘটনাটা রহস্যজনক। তবে আমরা এব্যাপারে নিশ্চিত যে তাকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অথবা ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছে। তবে ওই ছাত্র আত্মহত্যা করেছে এমন জোড়ালো প্রমাণ তাদের হাতে নেই। তবুও এই অপশনটি তদন্তে রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জয়ন্তিকা ট্রেন কালাকাঠি এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর রেল লাইনের পাশের বাড়ির কয়েকজন মহিলা মানুষের কান্না শুনতে পান। এমন সময় তারা এগিয়ে গিয়ে দেখেন রেল লাইনের পাশে ডোবার কাছাকাছি একটি ছেলে পড়ে আছে। যন্ত্রনায় চিৎকার করছে। পরে তাদের ডাকাডাকিতে লোকজন এগিয়ে আসে। ছেলেটিকে উদ্ধার করে রাস্তায় নিয়ে আসেন। তারা পকেটে থাকা একটি ভিজিটিং কার্ডে তার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। এসময় তারা তার মাথার পিছনে গুরুতর আঘাত থেকে রক্ত ক্ষরন হতে দেখেন। পায়ের দুই গোড়ালীতে কাটা দাগ দেখতে পান। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। সেলিম উদ্দিন মনে করেন কেউ তাকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে।

মুস্তাইনের বাবার সহকর্মী ডাঃ নাজমুল জানান, এটা নিশ্চিত হত্যাকান্ড। তিনি বলেন, মুস্তাইনরা দুই ভাই সে বড়। ছোট ভাই একটি বেসরকারী মেডিকেলর শিক্ষার্থী। বড় ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা মায়ের মানসিক অবস্থা বিপর্যস্থ। এই মুহুর্তে কারো সাথেই কথা বলছেন না তারা।

সিলেট রেলওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তাররা মামুনকে মৃত ঘোষনা করেন। তিনি জানান, মুস্তাইন ট্রেন থেকে পড়ে গেছে, নাকি কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে মামুরের মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তার মাথার পেছনে গুরতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেখান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরনের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছেন তারা।

শাবি প্রক্টর ড. জহির উদ্দিন আহমদ বলেন, ওই ছাত্রের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তা এখনি মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। এছাড় ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, শাবির তড়িৎকৌশল বিভাগের ছাত্র মুস্তাইন রাজ্জাকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বুধবার। মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হন তিনি।

 

ঢাকা, ১৬ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।