শাবি ছাত্রের লাশ উদ্ধার : মিলছে না অনেক প্রশ্নের উত্তর!


Published: 2017-05-18 12:43:11 BdST, Updated: 2017-09-24 12:39:57 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎকৌশল বিভাগের ছাত্র মুস্তাইন রাজ্জাক মামুরের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলানো যাচ্ছে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তার ভাগ্যে অন্য কিছু ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এনিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন মুস্তাইনকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি এটি একটি দুর্ঘটনা এনিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন কিনা সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই তিন কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

যদিও মুস্তাইন আত্মহত্যা করেছেন এমন অকাট্য প্রমাণ পুলিশের কাছে নেই, তাই আত্মহত্যা বিষয়ে পুলিশের সন্দেহ সবচেয়ে কম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আত্মহত্যা করে থাকলে ওই ছাত্রের মাথার পেছনে আঘাত থাকতো না।

সূত্র জানিয়েছে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মাথায় ফেঞ্চুগঞ্জ রেল লাইনের পাশ থেকে মুমুর্ষ অবস্থায় মুস্তাইনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তবে অরেকটি সূত্রের দাবি হাসপাতালে আনার আগেই মুস্তাইনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দ্বিতীয় সূত্রটি প্রথমে এমন কথা বললেও এখন আবার সেটি স্বীকার করতে চাচ্ছেন না।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, মুস্তাইনের ঘটনাটা রহস্যজনক। তবে আমরা এব্যাপারে নিশ্চিত যে তাকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অথবা ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছে। তবে ওই ছাত্র আত্মহত্যা করেছে এমন জোড়ালো প্রমাণ তাদের হাতে নেই। তবুও এই অপশনটি তদন্তে রাখা হয়েছে। পুলিশ সব অপশন সামনে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে।

মুস্তাইনের লাশ উদ্ধার নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম প্রশ্ন হল, ক্যাম্পাসের কথা বলে মুস্তাইন বাসা থেকে বের হয়ে কেন কুলাউড়ায় গিয়েছিলেন। কে বা কারা তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। নাকি তিনি নিজের ইচ্ছেতেই গিয়েছিলেন।
মুস্তাইনের পকেটে উদয়ন ও উপবনের দুটি টিকিট পাওয়া গেছে। এর মানে তিনি রাতে কুলাউড়া গিয়েছিলেন। সকালে তিনি সেখান থেকে ফিরছিলেন। ফেঞ্চুগঞ্জে ঘটনাটা ঘটে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মুস্তাইন মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসের কথা বলে বের হয়েছেন। সারাদিন তিনি কোথায় ছিলেন। রাতে বাসায় না গিয়ে তিনি কুলাউড়ায় কেন গেলেন। এব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের তিনি কিছু বলে যাননি। তিনি একা একা কুলাউড়ায় গিয়েছিলেন নাকি তার সঙ্গে কেউ ছিল তাও বলা যাচ্ছে না।

এছাড়া রাত থেকে মুস্তাইনের মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল কেন এনিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশের ধারনামতে, মুস্তাইন যদি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তেন তাহলে তার পকেটে মোবাইল ফোন কিংবা মানিব্যাগও থাকতো না। তাই এই অপশনটি মেনে নেয়া যাচ্ছে না।

এছাড়া মুস্তাইন যদি আত্মহত্যা করে থাকতো তাহলে তার মাথার পেছনে আঘাত থাকতো না। তার দুই পায়ের গোড়ালিতেও আঘাত রয়েছে।

আরেকটি অপশনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে মুস্তাইনকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এমনটি করেছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মুস্তাইন ক্যাম্পাসে নিয়মিত ছিলেন না। তার বন্ধু-বান্ধবদের সংখ্যাও ছিল কম। তাই শত্রুর সংখ্যাও কম থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু তাকে কেন হত্যা করা হল তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে মুস্তাইনকে ডেকে নিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে এঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে এমন তথ্য দিতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তবে ঘটনার সঙ্গে কিছু অস্বাভাবিকতা থাকায় তারা বষয়টি পুুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ময়না তদন্তের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে সবকিছু।

নিহত ছাত্র মুস্তাইনের মামা কামাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হন মুস্তাইন। এরপর রাত থেকে তার মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে বাসায় না ফেরায় সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজক নেয়া হয়। তার ধারনা মুস্তাইনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে মুস্তাইনের বাবা-মা হত্যার ব্যাপারে মুখ খুলেননি। তারা শোকে কাতর থাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মুস্তাইনের মাথার পেছনের দিকের আঘাতটা ছিল গুরুতর। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

শাবি প্রক্টর ড. জহির উদ্দিন আহমদ জানান, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্যকিছু তা এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলেই সব জানা যাবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বাসা থেকে ক্যাম্পাসের কথা বলে বের হন মুস্তাইন। এরপর ফেঞ্চুগঞ্জে রেললাইনের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় গুরুতর আহত অবস্থায়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঢাকা, ১৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।