বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা নাকি বজ্রপাত!


Published: 2017-06-03 01:30:52 BdST, Updated: 2017-09-24 12:46:43 BdST

ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ লাইভ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্র হারুণ হাসনাত দিপুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছেন তারা। হাসপাতালে ওই ছাত্রের লাশ ফেলে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররা চলে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি ওই ছাত্র বজ্রপাতে মারা গেছেন। যদি তাকে হত্যাই করা হত তাহলে পরিবারের পক্ষ থেকে কেন হত্যা মামলা করা হল না। লাশ কেন ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা হল।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে হারুন হাসনাত দিপুর মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। বজ্রপাত নাকি তাকে
পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এনিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন থাকায় রহস্য আরো ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও ওই ছাত্রের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। এমনকি এনিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা দায়েরও করা হয়নি।

জানা গেছে, নিহত ওই ছাত্রের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায়। তিনি ওই উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়নের ত্রীবিভাগদী গ্রামের বিজিবি সদস্য খলিলুর মাতুব্বুরের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ওই ছাত্রের সহপাঠীদের দাবি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে বজ্রপাতে মারা যান দিপু।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এনিয়ে সন্দেহ হলে তার লাশ ময়না তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তবে ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বিষয়টি বজ্রপাত উলে­খ করা হলে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছবি : ছাত্রের মাথায় আঘাতের চিহ্ন

এদিকে শুক্রবার দিপুর লাশ তার গ্রামের বাড়িতে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। তবে হত্যার অভিযোগ করলেও দিপুর মায়ের আপত্তির মুখে তার লাশ কাটতে দেয়া হয়নি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি পাগরপ্রায়। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। শোকে বিহব্বল বাবার সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি এ মুহূর্তে কথা বলতে চাচ্ছেন না।

ওই ছাত্রের মামা হায়াত আলী বলেন, দিপুর মা ও বাবা সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। দিপুর শরীর রক্তাক্ত, মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চেয়েছিলাম। তবে দিপুর মা ছেলের লাশ কাটতে রাজি না হওয়ায় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করতে হয়েছে। এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেছেন দিপুর মামা।

চরযশোরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানও দাবি করেন দিপুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা এবং কেন তাকে হত্যা করেছে এনিয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান মানসুরা খানম বলেন, বজ্রপাতে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে সহপাঠীদের কাছে জানতে পেরেছি।

গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের ড. সঞ্জয় কুমার ধর বলেন, ওই ছাত্রের লাশ দেখে বজ্রপাতের সিমটম পাওয়া গেছে। লাশে বজ্রপাতের আলামত দেখা গেছে। তবে রহস্যের সৃষ্টি করেছিল মাথায় অাঘাত। পরে জানা গেছে বজ্রপাতের সময় পড়ে গিয়ে সে মাথায় আঘাত পেয়েছে।

নগরকান্দা থানার ওসি এএফএম নাসিম বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি কোন অভিযোগ পাননি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। যেখানে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে সেখানকার গাছের পাতা পুড়ে গেছে। এছাড়া ঘটনার সময় বজ্রপাত ও ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিল। বজ্রপাতেই ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। হত্যার বিষয়টি তারা নিশ্চিত নয়। যদি এমনটি হয়ে থাকে তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত কার উচিত বলে মনে করেন তারা।

 

ঢাকা, ০৩ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।