স্বপ্নের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় : প্রকৃতির বুকে নৈসর্গিক ক্যাম্পাস


Published: 2017-06-17 12:56:26 BdST, Updated: 2017-11-21 18:11:46 BdST

সাইফুদ্দিন আহমেদ : স্বপ্নের ক্যাম্পাস রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। প্রস্তাবিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য ইতিমধ্যে ভিসির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এখন চলছে ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজ। চলতি সেশন থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বুড়িপোতাজিয়া মৌজার বাথান এলাকার কুঠিরভিটায় স্থাপিত হচ্ছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়টি। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমিতে এখন সবুজের সমারোহ। চারণভূমি, আকাঁবাকা মেঠোপথ আর পাড়াগাঁয়ের সরলতা। সবকিছু ছাপিয়ে প্রাণের ক্যাম্পাস হচ্ছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।

জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে নীলকর সাহেবদের নীল চাষ তদারকির নীলকুঠি ছিল এখানে। ইতিহাসখ্যাত এই স্থানসহ এর পাশের রাউতগাড়ি, রামকান্তপুর ও হান্নি মৌজায় রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারির ৩ হাজার একর নিজস্ব জমি।

এ জমির উপরেই প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে দেশের ৩৮তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’।

শাহজাদপুরের এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বার বার এখানে ছুটে আসতেন। তার বহু লেখায় তিনি এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

কবি ছিন্নপত্রে তিনি লিখেছেন, আমি এখানে এলে এক ধরনের আলাদা প্রশান্তি অনুভব করি, যা অন্য কোথাও পাই না। তিনি শিলাইদহ থেকে নৌকায় করে শাহজাদপুরের কাছারি বাড়িতে আসা-যাওয়ার পথে এই বাথান এলাকা অতিক্রমের সময় এর সৌন্দর্য প্রাণ ভরে উপভোগ করতেন এবং মুগ্ধ হতেন।

বড়াল, গোহালা, ধলাই, সোনাই, চিকনাই ও বলেশ্বরী নদী বেষ্টিত এ এলাকার জেলেদের জীবিকা নিশ্চিত করতে তিনি জাল যার জলা তার প্রথা চালু করেন। আবার এ এলাকার কৃষকের উন্নয়নে তিনি সিন্ধু প্রদেশ থেকে সিন্ধি জাতের উন্নত গাভী এনে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় এসব উন্নত জাতের গবাদি পশুর খাদ্য নিশ্চিত করতে নিজ জমিদারির লাখেরাজ জমির খাজনা মওকুফ করে বিশাল এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন গোচারণ ভূমি। যা আজও বিদ্যমান।

ফলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহযোগিতায় আজ শাহজাদপুরসহ এর আশপাশ এলাকা দুগ্ধ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত দুধ বাজারজাত করতে এ এলাকার বাঘাবাড়িতে কৃষকদের নিয়ে সমবায়ী প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

ছবি : সবুজের চারণভূমিে হচ্ছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

মাঠ ভরা গরুর পাল, দিগন্ত জোড়া শষ্য, রাখালের বাঁশির মধুর সুর, জেলেদের মৎস্য আহরণের কলতান, পাল তোলা নৌকায় নায়রী যাত্রা, মাঝির ভাটিয়ালি গান, কামারের ঠুংঠাং আওয়াজ, কুমারের হাঁকডাক, গাঁয়ের কৃষাণি বধূর নদী থেকে জল তুলে কলসী কাখে ঘরে ফেরা, মাছরাঙা, গাংচিল, পানকৌরির জলকেলি, ডাহুকের ডাক, শালিকের কিচিরমিচির, বকের ঝাঁকের উড়ে চলা, শিয়ালের হুককা হুয়া ডাক, গোচারণ ভূমিতে গরুর পালের হামবা হামবা ডাক, বাতাসে সোনালী ধানের দোলা, পরন্ত বিকালে নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে সোনা রোদের ঝিকিমিকিভরা পূর্ণিমায় জোসনায় অবগাহর্নি রবি কবিকে আকৃষ্ট করত।

তাই বারবার তিনি শাহজাদপুরে ছুটে এসেছেন। উপভোগ করেছেন এ অঞ্চলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। তার বহু লেখায় এর উল্লেখ রয়েছে। কবির সেই মন মুগ্ধকর স্মৃতিকে শ্রোদ্ধা ভরে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্মৃতি চির অমর করে ধরে রাখতে শাহজাদপুরে কবির প্রিয় সেই গোচারণ ভূমি এলাকায় তার জমিদারির নিজস্ব জমিতে তার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ। যা চলতি সেশন থেকে ক্লাস শুরুর মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রয়াস ও অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন হবে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।

তাই শাহজাদপুরের সর্বত্র বইছে আনন্দের বন্যা। মিছিল-মিটিং, মিষ্টি বিতরণ ও উৎসব আমেজে ভাসছে গোটা শাহজাদপুর। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ স্থানে যেতে চলছে রাস্তা নির্মাণসহ প্রাথমিক নানা কাজ। ইতিমধ্যেই রাউতারা সড়কের পোতাজিয়া কবরস্থান থেকে বাথান এলাকা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও পাকাকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।

ছবি : রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। এখানেই হচ্ছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

 

ভিসির আবাসস্থল, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনও প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত সুইটড্রিম হোটেলকে প্রশাসনিক ভবন, শাহজাদপুর সরকারি কলেজের ড. মযহারুল ইসলাম বিজ্ঞান ভবন, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, হযরত মখদুম শাহদৌলা (র.) ডিগ্রি কলেজ ও শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও শাহজাদপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনকে ক্লাসের জন্য একাডেমিক ভবন হিসেবে অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ক্যাম্পাসের কাজ। সবমিলিয়ে অপরূপ ক্যাম্পাসে নিজেদের মেলে ধরার অপেক্ষায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্নসারথিদের। সবুজের সমারোহ শিক্ষার্থীদের যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। যেখান থেকে বের হয়ে আসবেন এক একজন পণ্ডিত। যারা হয়তো একসময় দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। আলোকিত করবেন সমাজ।


ঢাকা, ১৭ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।