পড়াশোনা অস্ট্রেলিয়ায়, নেশা গার্লফ্রেন্ড ও গৃহকর্মী বদল!


Published: 2017-07-02 13:10:59 BdST, Updated: 2017-09-27 00:05:31 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : তিনি পড়াশোনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার কালচার ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন। সেই কালচার এবার বাংলাদেশে এসে চালু করেছেন তার বাসায়। কথায় কথায় গার্লফ্রেন্ড বদল, স্ত্রী পরিচয়ে সুন্দরীদের সঙ্গে রাত কাটানো আর মাসে মাসে বেশি বেতন দিয়ে গৃহকর্মী বদল তার নেশা। শুধু তাই নয় গৃহকর্মীর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার তার নিত্য কাজ।

বলছি তরুণ ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদের কথা। কিছুদিন পরপরই স্ত্রী বদল করতেন তিনি। বেশি বেতনে সুন্দরী কাজের মেয়েও নিয়মিত বিরতিতে সরবরাহ করা হতো তার বাসায়। বিকৃত যৌনাচার যেন ছিল তার নেশা। কথিত স্ত্রীর সামনেই কাজের মেয়ের ওপর চলত অকথ্য অত্যাচার। যৌন উত্তেজক ইনজেকশন নিয়ে মাঝে মধ্যে বেসামাল হয়ে পড়তেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে বাসায় বসত নারী-মদের আড্ডা। সালেহ আহমেদ এ পর্যন্ত ১১টি বিয়ে করেছেন। নির্ধারিত সময় পর আগের স্ত্রীকে আর দেখা যায় না।

এমনি বেসামাল সালেহ এবার ধরা পড়েছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর পরীবাগে গৃহকর্মীর ওপর যৌন অত্যাচার শেষে বেসামাল সালেহ আহমেদ তাকে সাততলা থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এর পরেই বেরিয়ে আসে তার কাণ্ডকীর্তি।

পুলিশ শনিবার সালেহ আহমেদকে গ্রেফতার করেছে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া গুরুতর আহত অবস্থায় হতভাগ্য গৃহকর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরীবাগের দিগন্ত টাওয়ারের সাততলার বেলকুনি থেকে মেয়েটিকে ফেলে দেয়া হয়েছে। তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওসি বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই তরুণের বাসা থেকে যৌন উত্তেজক নেশাজাতীয় বিভিন্ন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তার ব্যবহৃত ল্যাপটপও। ওই ল্যাপটপে দেশি-বিদেশি ৪ শতাধিক তরুণীর ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। এদের অনেকেই তার বাসায় কলে আসত।

মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা বলেন, ১৬ জুন বাড্ডা এলাকার নাজমা নামের এক মহিলা আমার মেয়েকে ওই বাসায় কাজের জন্য নিয়ে যায়। দুদিন পর আরেক বুয়ার মোবাইল ফোন থেকে আমাকে ফোন দেয়। ফোনে মেয়ে আমাকে জানায়, ভালো চাকরি পেয়েছে। কাজ কম। বেতন ১৫ হাজার টাকা। তারপর থেকে তার ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গতরাতে ওই বাসার এক নিরাপত্তাকর্মী ফোন দিয়ে মেয়ে গুরুতর আহত বলে মেডিকেলে আসতে বলে। ঢাকা মেডিকেলে এসে মেয়ের করুণ অবস্থা দেখতে পাই।

ভুক্তভোগী গৃহকর্মী বলেন, ওই বাসায় কাজে যোগদানের পর থেকেই সালেহ আহমেদ তাকে বিকৃত যৌনাচারে বাধ্য করে। তিনি জানান, মদ এবং ইয়াবার নেশায় টালমাটাল থাকতেন সাহেব (সালেহ আহমেদ)। মেমও ইয়াবায় আসক্ত। সালেহ আহমেদ কথিত স্ত্রীর চোখের সামনেই তার সঙ্গে যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। শুক্রবার রাতে সালেহ আহমেদ নিজের শরীরে একাধিক বিদেশি যৌন উত্তেজক ইনজেকশন পুশ করেন। এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। বাধা দেয়ায় মারধর করে সাততলার বেলকুনি দিয়ে আমাকে নিচে ফেলে দেন। আমার সঙ্গে তার কথিত স্ত্রীকেও মারধর করেন।


ঢাকা, ০২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।