শিক্ষকদের এ কেমন জালিয়াতি!


Published: 2017-07-27 00:06:08 BdST, Updated: 2017-08-17 21:37:13 BdST

 

লাইভ প্রতিবেদক: শিক্ষকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে পিতামাতার চেয়ে শিক্ষকদের অবদান কম নয়। তারাই জাতির প্রধান চালিকাশক্তি। প্রায় সময়ই দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের অনুসরণ করে থাকেন। আর এরাই যদি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন তাহলে জাতি এদের দ্বারা কি উপকার পাবে? 

বলা হচ্ছিল, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকার চারজন শিক্ষকের কথা। ওই চার শিক্ষক একসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।   

যশোর শিক্ষা বোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যমতে কোনো শিক্ষক একসঙ্গে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ নেই। এটা করলে হবে জালিয়াতি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

ওই চার শিক্ষক হলেন মিতা বিশ্বাস, সুব্রত কুমার নন্দী, অমিত কুমার সেন ও ফাতেমা আক্তার। 

জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন মিতা বিশ্বাস। তিনি ওই স্কুলে যোগদান করেছেন ২০০০ সালের ১লা মার্চ। প্রায় ১৫ বছর পর কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হলে মিতা বিশ্বাস কলেজটিতে ২০১৫ সালের ২০শে এপ্রিল যোগ দেন। মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের ওয়েবসাইটে মিতা বিশ্বাসকে সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ আছে। 

প্রাইমারির শিক্ষক মিতা বিশ্বাসের দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখছি। 

শহীদ নূর আলী কলেজের বাংলার শিক্ষক সুব্রত কুমার নন্দী কলেজটিতে যোগদান করেন ১৯৯৮ সালের ১লা জানুয়ারি। ১৭ বছর পর তিনি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেছেন ২০১৫ সালের ২০শে এপ্রিল। শহীদ নূর আলী কলেজে সুব্রত কুমার নন্দীর শিক্ষক পরিচিতি নং ০০০০০১৫৫৬৩।

শহীদ নূর আলী কলেজের রসায়ন বিভাগের আরেক শিক্ষক অমিত কুমার সেন কলেজটিতে যোগদান করেন ২০০৩ সালের ৮ই জানুয়ারি। ১২ বছর পর তিনি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেছেন ২০১৫ সালের ২০শে এপ্রিল। শহীদ নূর আলী কলেজে অমিত কুমার সেনের শিক্ষক পরিচিতি নং ০০০০০১৪৮৩০। 

শহীদ নূর আলী কলেজের বাংলা বিভাগের ১২৩৪৫৭৭৭৬৪ পরিচয়ধারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তার মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেছেন মর্মে নিশ্চিত করেন কলেজটির ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল আবদুল মজিদ মণ্ডল। 

অভিযুক্ত শিক্ষকদের একজন অমিত কুমার সেন বলেন, আমি নূর আলী কলেজ থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করি। তবে মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে দুই বছর যোগদান করলেও সেখান থেকে আমি বেতন গ্রহণ করি না বা ক্লাসও নিই না। 

এ বিষয়ে শহীদ নূর আলী কলেজের প্রিন্সিপাল রাশেদ সাত্তার তরু জানান, তার কলেজের তিন শিক্ষক সুব্রত নন্দী, অমিত সেন ও ফাতেমা আক্তার মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে যোগাদন করেছেন বলে শুনেছেন। 

মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল আবদুল মজিদ মণ্ডল দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়ে বলেন, উল্লিখিত চার শিক্ষক তার কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন, পারমানেন্ট না। তারা কোনো বেতন নেন না। 

একই সঙ্গে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা বৈধ কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল বলেন, কমিটির অনুমতি থাকলে খণ্ডকালীন চাকরি করতে পারেন। তাদের কলেজ থেকে কোনো টাকা দেয়া হয় না। তবে কোনো শিক্ষক তথ্য গোপন করলে তার দায়দায়িত্ব কলেজ বহন করবে না। 

এ বিষয়ে যশোর বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার রাকিবুল ইসলাম জানান, এক কলেজে নিয়মিত চাকরি করলে অন্য কলেজে যোগদান করতে পারেন না। করলে সেটা হবে চুরি বা জালিয়াতি। এর দায়দায়িত্ব পড়বে অধ্যক্ষের উপর। এটা বেআইনি।

 

ঢাকা, ২৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।