শাবি ছাত্রীকে র‌্যাগিং : সমঝোতার আভাস, পাল্টা শাস্তি!


Published: 2017-07-27 01:39:20 BdST, Updated: 2017-10-20 12:54:58 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে র‍্যাগিংয়ের নামে যৌন হয়রানি ও সেই সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। এনিয়ে ছাত্রী ও অভিযুক্ত ৩ ছাত্রের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নেয়।

ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই এনিয়ে সমঝোতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি ভুলবোঝাবুঝির কারণে হয়েছে এমন মন্তব্য করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিষয়টিকে মিটমাট করে দেয়ারও প্রক্রিয়া চলছে। এর পাশাপাশি ঘটনাটি সাজানো নাটক কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি সেটি হয়ে থাকে তবে ওই ছাত্রীরও বিচার হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। কোন উদ্দেশ্যে কাদের ইশারায় ওই ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছেন তাও খতিয়ে দেখা হবে। যদি বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণেদিত হয়ে থাকে তবে এর বিচার করা হতে পারে বলে প্রক্টর অফিস সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিষয়টি মিটমাট করে দেয়ার কথা বললে তা নাকচ করে দেয়া হয়েছে। যেহেতু এবিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে তাই এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষেই দোষীদের বিচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্রীকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে ৩ ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। আর যদি বিষয়টি সাজানো নাটক হয়ে থাকে তাহলে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ ওই ঘটনাটিকে মিটমাট করে দেয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বুধবার (২৬ জুলাই) বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে এনিয়ে আলোচনাও করেছেন। তারা বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ জানান। বিষয়টি ভুলবোঝাবুঝির কারণে হয়েছে এমন মন্তব্যও করা হয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। তাই যা হয়েছে সেটি যেন আর না বাড়ে সেজন্য সমঝোতার প্রস্তাব করা হয়েছে। র‌্যাগিংয়ের ঘটনা নিয়ে ভিকটিম ছাত্রী ও অভিযুক্ত তিন ছাত্র যথেষ্ট হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তাই ওই ঘটনাটিকে নিয়ে আর নাড়াচাড়া করতে চান না শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তাই তাদের মত উভয়পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ তুলে নেয়ার।

এদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের পক্ষ থেকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট দিতেও বলা হয়েছে। তাদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর একেএম মাজাহারুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দেয়ার জন্য ৭ দিনের সময় দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি সমঝোতার জন্য শিক্ষার্থীদের একটি অংশ চেষ্টা চালাচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এনিয়ে সমঝোতার কোন সুযোগ নেই। ওই ছাত্রী অভিযোগ র‌্যাগিংয়ের যে অভিযোগ করেছেন তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভাগের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে তাই সত্য উদঘাটন করা হবে। তাতে যেই পক্ষ দোষী হবে তাদের শাস্তি হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শাবি প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, শাবিতে র‌্যাগিং কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। ছাত্রীকে র‌্যাগিংয়ের যে ঘটনাটি ঘটেছে তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ওই ঘটনা নিয়ে সমঝোতার কোন সুযোগ নেই। অবশ্যই এর সুষ্ঠু সুরাহা হবে। দোষীকে তার শাস্তি পেতেই হবে।

তিনি বলেন, কোন পক্ষ এসে যদি আমাকে বলে বিষয়টি সুরাহা হয়ে গেছে তাহলে আমি খুশি হতে পারবো না কারণ এতে অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়া হল। এটি খুবই সেন্সেটিভ ইস্যু। কেউ র‌্যাগিং নিয়ে অভিযোগ করলো পরে আবার তা প্রত্যাহার করে নিল তা হওয়ার সুযোগ নেই। র‌্যাগিংয়ের অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি হবেই। আবার র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ করে কেউ এর সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে তারও শাস্তি পেতে হবে। ওই ছাত্রীর সঙ্গে র‌্যাগিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনুরূপভাবে কোন অসৎ উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রী অভিযোগ করে থাকলে তারও শাস্তি হবে বলে উল্লেখ করেন প্রক্টর। তিনি বলেন, র‌্যাগিং নিয়ে এমন একটি স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। দোষী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতে হবে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ করেন একই বিভাগের ছাত্রী। র‌্যাগিংয়ে ওই ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষার্থী হলেন, রিয়াদ, আদনান এবং হাফিজ। তারা বর্তমানে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী প্রক্টর বরারব লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার ও শাস্তি দাবি করেছেন।

লিখিত অভিযোগে ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, পড়ালেখার সহযোগিতার কথা বলে রিয়াদ, আদনান ও হাফিজ ১১ জুলাই তাকে শহীদ মিনারের নিচে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে। পরে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন আলাপ করে মানসিকভাবে নির্যাতন করে। অনবরত যৌন হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে।

ওই ছাত্রী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, গত সোমবার তার ব্যাচের সবার সঙ্গে আলোচনার নামে টার্গেট করে তারা তাকে হেয়প্রতিপন্ন করে। যার ফলে এক পর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে বন্ধুরা তাকে জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে ওই অভিযোগের পর এনিয়ে শাবিতে তোলপাড় শুরু হয়। র‌্যাগিংয়ের নামে হয়রানিতে ছাত্রী অজ্ঞান হওয়ার ঘটনাকে সাজানো দাবি করে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ভিকটিম ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ দেয়া হয়। র‌্যাগিং ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দেয়ার পরদিন প্রক্টর বরাবর ওই অভিযোগ দেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থী। তারা অভিযোগে ওই বিভাগের ৭৩ জন শিক্ষার্থীর সাক্ষরও নিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে সাজানো দাবি করেছেন।


ঢাকা, ২৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।