ক্ষমা কর পিতা


Published: 2017-08-17 11:07:39 BdST, Updated: 2017-11-23 20:47:43 BdST

 


শেখ মোঃ ফায়েকুজ্জামান টিটো: জাতীয় শোক দিবস কি আসলেই শোক ছিল? প্রশ্ন দিয়ে লেখা শুরু করার কোন ইচ্ছা বা অভিপ্রায় আমার ছিলনা। আমার কাছে মনে হয়না সবাই শোক পালন করছে।

আমার কাছে মনে হয় অনেকেই নিজেদের জাহির করতে ব্যস্ত, কে কতটা দেশপ্রেমিক, কে কতটা মুজিব প্রেমিক তা প্রমাণ করার (ব্যবসা করতে হবেনা বা আখের গোছানো লাগবেনা)। শোকের চেয়ে বরং বঙ্গবন্ধুকে ব্যবসায়ের হাতিয়ার হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করছে। জন্মের পর থেকে এমন একটা জায়গায় বেড়ে উঠেছি যেখানে জয় বাংলার স্লোগানই ছিল আমাদের ভাষা। দল, রাজনীতি বা প্রতীক বলে কিছুই জানিনা শুধু জানি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে।

বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি কিন্তু শুনেছি তাঁর কথা, তাঁর সেই জ্বালাময়ী ভাষন যা আজো অন্তরকে কাপিয়ে দেয় ভিতরের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে তোলে, বিরামহীন ভাষন শুনি কিন্তু কখনোই ক্লান্তি বা বিরক্তি আসেনা। সেই থেকেই জাতির পিতাকেই আদর্শ মনে করে বেড়ে উঠছি। আওয়ামীলীগ বিএনপি বুঝিনা বুঝি আমি মুজিব আদর্শের সেনা। তাকে ভালবাসি কোন লাভ-লোকসানের হিসাব কখনও করিনি করার প্রশ্নও আসেনা। স্বপ্নের মহানায়ক কে ভালবাসতে পারাই ভাগ্যের ব্যাপার লাভ-লোকসান সে তো প্রশ্নই আসেনা।

এবার মূল আলোচনায় আসি। ১৫ই আগষ্ট আমাদের জাতীয় শোক দিবস। পিতাকে হারিয়ে দিকভ্রান্ত শোকে মুহ্যমান সারা জাতি ( কিছু কুলংগার ছাড়া)। হতাশার সাগরে হাবু-ডুবু খেয়ে অথই সাগরে পড়ে গিয়েছিলাম আমরা। পিতা বিহীন দেশে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুন্ঠিত করতে ও বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা কম করেনি তারা। জাতির পিতাকে স্ব-পরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার সময় তখনকার সেনা প্রধান কেএম শফিউল্লাহ ও বিমান বাহিনীর প্রধান এ কে খন্দকার এর ভুমিকা কি ছিল সেটা এখনো বড় প্রশ্ন।

এ বিষয়ে শুধু আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার শেখ ফজলুল করিম সেলিম ছাড়া আর কাউকে উচ্চবাচ্চ করতে দেখিনা। এরা দুজনই বিশ্বাসঘাতক বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি একটা চেষ্টা ও করেনি। অথচ তারাই আবার পুরস্কৃত একজন সেক্টর কমান্ডার নেতা আর একজন পুর্ন মন্ত্রী ছিলেন।

হায়রে সোনার বাংলা! ঢালাওভাবে অন্য সবাইকে দোষারোপ না করে আসল সত্য জানার জন্য এই দুই কুলংগারদের রিমান্ডে নেওয়া হোক। তারপরে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে সেটা জিয়া হোক বা অন্যকোন রাঘব-বোয়াল হোক পিতা হত্যার বিচার হবেই। জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় তারা কি করেছে।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রেক্ষাপট যারা তৈরী করেছিল তারা আজ রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদ ভোগ করছে।

বাকশাল গঠন করার পর চারিদিকে যেভাবে সবাই হুড়-মুড়িয়ে বাকশালে যোগদান করা শুরু করেছিলেন তা দেখে মনে হচ্ছিল বাকশালের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে(পিতা শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি সব সময়ই ছিল)। বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে ৭৫এ যখন হত্যা করার পর দেশব্যাপী লাগাতার কোন হরতাল হয়নি। জনতার ঢল নামেনি কোথাও। কারন দালাল ও সুবিধাবাদীরা তাকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিল যে আসল দেশপ্রেমিকেরা তাদের কাছে পাত্তাই পায়নি। দেশ স্বাধীনের পরে সুবিধাবাদীরা সুবিধা নেবার জন্য দলে দলে আওয়ামীলীগে যোগদান করছিল ওদের ইচ্ছা ছিল মুলত আখের গোছানো।

বঙ্গবন্ধু জীবীত থাকা অবস্থায় তাঁর দলকে চাটার দল বলে গেছেন। আজ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাকে। অথচ এখন শোক দিবস পালিত হচ্ছে উৎসব আর আমেজ নিয়ে। এবারের শোক দিবসে যা দেখলাম তা দেখে চোখ কপালে উঠে গেল।

হায়রে স্বপ্নের সোনার বাংলা! হায়রে মুজিব সেনা নামধারী সুবিধাবাদীরা শোক দিবসে এত আয়োজন এক কালারফুল পোশাক এত আমুদে আড্ডা এগুলো কি জাতির পিতার আদর্শ নাকি ওদের নগ্ন আনন্দ প্রকাশ? এটা শোক দিবস নাকি আনন্দ দিবস? উৎসব করে আনন্দ করে হইহুল্লোড় করে শোক হয়না। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদত বার্ষিকী তে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রইল। পিতা তুমি ঘুমাও আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন। ক্ষমা কর আমাদের। আমরা আজ তোমাকে ট্রামকার্ড বানিয়ে যে যা পারি কামিয়ে নিচ্ছে । আমাদের মাপ কর পিতা।

 

লেকচারার, এ আই এস বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। গোপালগঞ্জ।

 

ঢাকা, ১৭ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।