মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, দুদকে অভিযোগ


Published: 2017-08-19 20:18:00 BdST, Updated: 2017-09-22 23:05:46 BdST

সাতক্ষীরা লাইভ: কালিগঞ্জ উপজেলার বড়শিমলা কারবাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, লাইব্রেরীয়ান ও অফিস সহকারী পদে নিয়োগে প্রায় অর্ধ কোটি টাকায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি খান আছাদুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক টাকার বিনিময়ে মেধাবিদেরকে ব্যতিরেকে এমন নিয়োগ দিয়েছেন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।


স্থানীয় সুত্রমতে, কালিগঞ্জ উপজেলার বড়শিমলা কারবাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে একজন, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে একজন, লাইব্রেরীয়ান পদে একজন এবং অফিস সহকারী পদে একজন করে লোক নিয়োগ দেওয়ার জন্য গত ১০ই এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নিয়োগ কমিটি গত ৫ আগস্ট-২০১৭ ইং তারিখে প্রার্থীদের নিয়োগ পরীক্ষার দিন ধার্য করেন। নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বেই বিদ্যালয়ের সভাপতি খান আছাদুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক কতিপয় প্রার্থীদের নিকট হইতে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক পরীক্ষার আগের রাত্রে চুক্তিকৃত প্রার্থীদের প্রশ্নপত্র সরবারাহ করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভুগী অন্যান্য প্রার্থীরা।


অভিযোগে আরও জানা যায়, তিনি প্রধান শিক্ষক পদে গাজী মিজানের নিকট থেকে ১৫ লাখ, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে সাড়ে ৭ লাখ, লাইব্রেরীয়ান পদে ১২ লাখ ও অফিস সহকারী পদে ১১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় এবং চুক্তি মোতাবেক করেপরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে পাতানো পরীক্ষার মাধ্যমে তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়।

নিয়োগ বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ কমিটির সভাপতি খান আছাদুর রহমান, বিদ্যালয়ের ভারপাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুব্রত সরকার। উক্ত নিয়োগ কমিটির কতিপয় সদস্যরা টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে কালিগঞ্জের বড়শিমলা হাই স্কুলের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গাজী মিজান বলেন, যারা নিয়োগ পাইনি তারা শত্রু তাবশত এমন অভিযোগ করেছেন। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এর মোবাইলে ফোন করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি খান আছাদুর রহমান বলেন, পাতানো নিয়োগ বোর্ড ছিল না। যারা যোগ্য ছিলো তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে টাকা নেওয়ার কোন কিছু ঘটেনি। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজের মোবাইল একাধিকবার মোবাইল করা হলেও তিনিও রিসিভ করেন নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈন উদ্দিন হাসান বলেন, একটি অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ঢাকা, ১৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমকে

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।