‘জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব হাজারো গুন শক্তিশালী’


Published: 2017-08-21 19:23:24 BdST, Updated: 2017-11-20 21:37:35 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেছেন, জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব হাজারো গুণ বেশি শক্তিশালী। বঙ্গবন্ধুর হত্যা ছিল বড় ষড়যন্ত্রের সফল বাস্তবায়ন। আর জাতি হিসেবে আমাদের ছিল সম্মিলিত ব্যর্থতা।

সোমবার শোকাবহ ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রফেসর আবদুল মান্নান এসব কথা বলেন।

প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডকে অনেকে একদল বিপথগামী সৈনিকদের কাজ ছিল বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু এটা ছিল বড় ষড়যন্ত্রের সফল বাস্তবায়ন। আর জাতি হিসেবে তাঁকে বাঁচাতে না পারা ছিল, আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা।

প্রফেসর আবদুল মান্নান বঙ্গবন্ধুর হত্যার নীল নকশার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যাদের বেশি বিশ্বাস করেছিলেন, তারাই তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি করে। ঘরের শত্রু যখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখনই এমন নির্মম হত্যাযজ্ঞ করা সম্ভব হয়। খন্দকার মুশতাককে বঙ্গবন্ধু অনেক বেশী বিশ্বাস করতেন। তিনি তার সন্তানদের বলেছিলেন, আমার কোন কিছু হলে তোমরা মুশতাক কাকুর কাছে যাবে!’

তিনি বলেন, ‘যখন আমাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল যখন স্বাধীন হয়ে গেছে; সেই সময়ে খন্দকার মুশতাক সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় বসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খবর পাঠায় যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতিয়ালীতে যদি বঙ্গবন্ধু ছাড়া পান, তবে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বন্ধ করে দেব। বস্তুত: এটিও ছিল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।’

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রফেসর আবদুল মান্নান ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত, তথ্যবহুল ও গঠনমূলক আলোচনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের শাস্তির আওতায় আনতে একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পুরো জাতি নির্বাক ও স্থবির হয়ে পড়েছিল। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল, এর মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। এটি কোনো সাধারণ হত্যাকা- নয়। এটি ছিল ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অংশ। এর পেছনের কুশীলবদের শাস্তির জন্য একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেনও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনের কুশীলবদের শাস্তির জন্য কমিশন গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একাত্তর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে হবে। এ জন্য কমিশন গঠনের বিকল্প নেই।’

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রলীগ হতে হবে। কোনো ভাই-বোনের ছাত্রলীগ হওয়া চলবে না। কিছু পাওয়ার রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি করতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো: মিজানুর রহমান, কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলালুল ইসলাম, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল আলম রনি, যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস, শেখ হাসিনা হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন প্রমুখ।

 

ঢাকা, ২১ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।