যবিপ্রবিতে মধ্যরাতে ৩১ লাখ টাকা লুটে নিল ছাত্রলীগ, মামলা


Published: 2017-10-09 00:36:10 BdST, Updated: 2017-10-18 11:24:05 BdST

যশোর লাইভ : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসানসহ ৭জনের নামে লুটপাট ও ভাংচুরের মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত ৩০-৪০জনকে আসামি করা হয়েছে। শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে মধ্যরাতে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব বাদী হয়ে ওই মামলা করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয় গত ৫ অক্টোবর শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে হামলায় ত্রিশ লাখ টাকার ল্যাপটপ, মোবাইল, আইফোন, হাতঘড়ি, এক লাখ বিশ হাজার টাকা নগদ লুট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দশ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবমিলিয়ে ওই দিনের হামলায় একচল্লিশ লাখ বিশ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার রাতে (৭ অক্টোবর) যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। যার নম্বর ৩৯। মামলার আসামিরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মাসকাটা গ্রামের এমএম মোহর আলীর ছেলে এসএম শামীম হাসান, মশিয়ুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ গ্রামের কার্ত্তিক চন্দ্র দের ছেলে বিপ্লব কুমার দে, যবিপ্রবি পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের শেখ আলতাফ হোসেনের ছেলে তানভীর ফয়সাল, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বধূপুর গ্রামের মুন্সী গোলাম মোস্তফার ছেলে আল মামুন সিমন, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকার আশুলিয়া এলাকার ধলপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মাসুদুর রহমান রনি, শহীদ মশিয়ুর রহমান হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামের হারুণ অর রশিদের ছেলে তানভীর আহমেদ তানিন এবং যবিপ্রবি পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সাচিবুনিয়া গ্রামের শহিদ খন্দকারের ছেলে আশিক খন্দকার।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৪০ মিনিট হতে রাত ৩টার মধ্যে ক্যাম্পাসে এসএম শামীম হাসানের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তান্ডব চালায়। এজাহারে উল্লেখিত আসামি ও বহিরাগত ৩০-৪০জনের একটি দল ক্যাম্পাসের মূল ফটকে এসে কর্তব্যরত আনসার সদস্য সোহেল রানা, নাসির মণ্ডল ও উজ্জ্বল হোসেনকে দায়িত্বপালনে বাধা দেয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কয়েকজন জিম্মি করে রাখে। এসএম শামীম হাসানের নেতৃত্বে ওই দলটি শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে প্রবেশ করে। হলের তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় থাকা ছাত্রদের রুমে প্রবেশ করে তাদের মারপিট শুরু করে। হলে থাকা ছাত্রদের ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, মোবাইল আইফোন ও কয়েকটি হাতখড়িসহ নগদ অর্থ যার যা ছিল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এরমধ্যে নগদ অর্থ এক লাখ বিশ হাজার টাকা, ত্রিশ লাখ টাকা মূল্যের ল্যাপটপ, মোবাইল, মোবাইল আইফোন, ও হাতঘড়ি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। ছাত্রদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে শামীমসহ কয়েকজন ছাত্র ও মুখোশধারী বহিরাগত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং কয়েক রাউন্ড আগ্নেয়াস্ত্র গুলি বর্ষণ করে। হলের বিভিন্ন রুমের দরজা ও জানালা ভাংচুর করেছে।

রিজেন্ট বোর্ডের ৪৪তম সভায় (জরুরী) সাত ছাত্রকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


ঢাকা, ০৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।