চেহারাতো সুন্দর, মডেলিং কর : শিক্ষকের বয়ানে আত্মঘাতি ছাত্রী!


Published: 2017-10-12 00:40:40 BdST, Updated: 2017-10-18 11:39:57 BdST

কুষ্টিয়া লাইভ : মডেল টেস্ট দিতে এসে কুষ্টিয়ায় শিক্ষকের বয়ান সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতি হয়েছেন এক ছাত্রী। এঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা স্কুল ঘেরাও করে ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন। সদর উপজেলার কেএসএম কলেজিয়েট স্কুলের নিহত ওই ছাত্রী কবরবাড়িয়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আকবর আলীর মেয়ে।

জানা গেছে, বুধবার মডেল টেস্ট শুরু। তাই আগের দিন মঙ্গলবার ওই ছাত্রী স্কুলে যায় প্রবেশপত্র নেয়ার জন্য। স্কুলের সহকারি শিক্ষক মামুনর রশিদ মাসুদের কাছে গেলে তিনি বলেন, তুমিতো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। কারণ তুমি মডেল টেস্টের জন্য টাকা জমা দাওনি। সহকারি শিক্ষক মাসুদের এমন কথা শুনে হতবাক ডালিম। সে জানায় আপনার হাতেই আমি ও আমার ভাইয়া এসে টাকা জমা দিয়েছি। আপনি বলছেন টাকা দেয়নি। স্যার আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। ডালিমের এমন কথা শুনে রাগান্বিত হন শিক্ষক মাসুদ। তিনি জানান তোমার পরীক্ষা দিয়ে কাজ নেই। তোমারতো চেহারা খুব সুন্দর, তুমি মডেল টেস্ট না দিয়ে মডেলিং কর!!! এতে ভাল করবে। শিক্ষক মাসুদের এমন সব কুরুচীপুর্ণ বাক্য শুনে ওই ছাত্রী ছুটে যান অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম ডাবলুর কাছে। সেখানেও কোন সদুত্তর মেলেনি। তখন দুপুর প্রায় ১২টা। এক পর্যায়ে কোন প্রতিকার না পেয়ে ওই ছাত্রী হতাশ হয়ে ফিরে যান বাড়িতে। নিজ ঘরে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে ডালিম। এভাবে একটি মেধাবী স্বপ্নের অপমৃত্যু হয়েছে।

ডালিমের মা ফুলি বেগম জানান, গত বছর অসুস্থতার কারণে জেএসজি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি মেয়ে। এবার তার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, বাড়িতে পোষা মুরগির ডিম আর দুধ বিক্রির মাধ্যমে অনেক কষ্টে মেয়ের রেজিষ্ট্রেশনের জন্য টাকা জোগাড় করে দেন তিনি। প্রায় তিন মাস রেজিষ্ট্রেশন শুরু হলে ডালিম বিদ্যালয়ের সরকারি শিক্ষক মামুন অর রশীদ মাসুদের কাছে ফিসের টাকা জমা দিয়ে আসে।

পরে মঙ্গলবার সে প্রবেশপত্র নিতে স্কুলে যায়। সেখানে জানতে পারে তার রেজিষ্ট্রেশন হয়নি, তাই এবারও তার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হবে না। এতে ডালিম সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদ মাসুদের কাছে গিয়ে রেজিষ্ট্রেশন না হওয়ার কারণ জানতে চায়।

মা ফুলি বেগমের অভিযোগ শিক্ষক ডালিমকে এ ব্যাপারে সদুত্তোর না দিয়ে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক ডালিমকে বলে, ‘তোমার লেখাপড়া করার দরকার নেই, তোমার চেহারা তো খুব সুন্দর। তাই মডেলিং করো বা সিনেমায় নেমে পড়।’ পরে ডালিম বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম কাছে যায়। তিনিও পাত্তা দেননি ডালিমকে। উল্টো তিনি ডালিমকে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে সে। পরে বিকেলে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে ডালিম। তবে আত্মহত্যার আগে সে মুঠোফোনে তার মামাতো ভাইয়ের কাছে শিক্ষকের অপমানের কথা জানিয়ে গেছে।

ডালিমের মামাতো ভাই রোমেল হোসেন জানান, কেএসএম কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশীদ মাসুদ ও অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম তার বোনের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। ফোনে ডালিম তাকে সব ঘটনা জানিয়েছে।

স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কবরবাড়িয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান ডালিমের মৃত্যুর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়ী। আমরা অভিভাবক হিসেবে এই ডালিমের মৃত্যুর জন্য অধ্যক্ষ ও সহকারী শিক্ষকের শাস্তি চাই।

বিদ্যালয় ঘেরাও করার পর মাসুদ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে, ডালিমের কাছ থেকে টাকা নিলেও তার নাম আমি খাতায় তুলতে ভুলে গেছি। তবে তিনি ডালিমের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করেন।

অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, রেজিষ্ট্রেশন না হওয়ার কারণ জানতে ডালিম মঙ্গলবার তার কাছে এসেছিল। তবে তিনি মেয়েটির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি বলে দাবি করেন।


ঢাকা, ১১ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।