চুরির অপবাদে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ১৬০ বেত্রাঘাত


Published: 2017-08-12 16:38:16 BdST, Updated: 2017-10-20 12:50:56 BdST

 

বরিশাল লাইভ: চুরির অপবাদে কওমী মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে ১৬০ বেত্রাঘাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) মহিলা কওমী মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। 

বৃহস্পতিবার রাতে মাদ্রাসার তিন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একশ’ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর মুখে গামছা বেঁধে এই অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।   

নির্যাতিতা ওই ৮ বছর বয়সী শিশু ছাত্রী কামরুন নাহার সুমাইয়া উপজেলার পশ্চিম শাওড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. কামাল হোসেন বেপারীর মেয়ে। 

শুক্রবার সকালে মাদ্রাসার আবাসিক হল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় নির্যাতিতা ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার মা গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

ঘটনার পর ছাত্রী নির্যাতনকারী মাদ্রাসার শিক্ষিকা রোকসানা ও হাফিজাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে মাদ্রাসা কর্র্তপক্ষ দাবি করছেন। 

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

নির্যাতিতা ওই শিশু ছাত্রীর মা রেনু বেগম জানান, প্রায় সাড়ে তিনবছর পূর্বে তার একমাত্র শিশু কন্যাকে এই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। এরপর থেকেই তাকে (সুমাইয়া) মাসিক তিন হাজার টাকা চুক্তিতে মাদ্রাসার আবাসিক হলে রাখা হয়। 

তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার এক ছাত্রী গোপনে তাকে ফোন করে জানায় মাদ্রাসার তিন নারী শিক্ষক সুমাইয়াকে বৃহস্পতিবার রাতে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। খবর পেয়ে তিনি সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক হল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার শিশু কন্যা সুমাইয়াকে উদ্ধার করেন।

এসময় মাদ্রাসার বড় খালামনি (সুপার) তাকে জানায়, অপর এক ছাত্রীর একশ’ টাকা চুরির ঘটনায় সুমাইয়াকে শাসন করা হয়েছে। তবে কোন ছাত্রীর টাকা চুরি হয়েছে তা তিনি (সুপার) বলতে পারেননি। 

নির্যাতিতা শিশু ছাত্রী সুমাইয়ার বরাত দিয়ে তার মা রেনু বেগম আরও অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টটার দিকে একশ’ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসার সুপার (বড় খালামনি হিসেবে পরিচিত) ও মেঝ খালামনি এবং বাংলা খালামনি মিলে সুমাইয়ার মুখে গামছা বাঁধে।

এরপর বড় খালামনির নির্দেশে মাদ্রাসার আবাসিক হলের মেঝ খালামনি গুনে গুনে তার মেয়েকে ৬০টি ও বাংলা খালামনি ১০০টি বেত্রাঘাত করেছে। এতে তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরেও তাকে (সুমাইয়া) রাতের খাবার দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার প্রধান সুপার (বড় খালামনি) আমার স্ত্রী। টাকা চুরির ঘটনায় ছাত্রী সুমাইয়াকে মাদ্রাসার ২ শিক্ষিকা বেত্রাঘাত করায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষিকা রোকসানা ও হাফিজাকে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গ, মাদ্রাসার প্রধান সুপারকে বড় খালামনি, সহকারী সুপারকে মেঝ খালামনি ও অন্য শিক্ষকদের সাবজেট অনুযায়ী বাংলা খালামনি কিংবা আরবী খালামনি হিসেবেই ডাকেন শিক্ষার্থীরা।

 

ঢাকা, ১২ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।