নম্বরের লোভ দেখিয়ে মেডিকেল ছাত্রীকে আপত্তিকর প্রস্তাব!


Published: 2017-08-07 02:55:13 BdST, Updated: 2017-08-17 21:39:46 BdST

যশোর ব্যুরো : যশোর আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন কো-অর্ডিনেটর ও মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিচমন্ড রোলান্ড গোমেজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

গত ৩ আগস্ট ওই শিক্ষক চেম্বারে ডেকে নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসককে যৌন হয়রানি করেছেন। আপত্তিকর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইর্ন্টান কোর্স সম্পন্ন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। রোববার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের শিকার ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক এমন অভিযোগ করেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকের দাবি, শিক্ষকের হাতে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকায় কলেজটিতে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে যৌন হয়রানি করা হয়।

ভয়ে নির্যাতনের শিকার ছাত্রীরা মুখ মুলতে পারে না। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা রেকর্ড হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ও থানার অভিযোগে ওই ইন্টার্ন ছাত্রী দাবি করেন, আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি কো-অর্ডিনেটর এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর রিচমন্ড রোলান্ড গোমেজ অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। সেটি আমি কোনভাবেই মেনে নিতে পারিনি। তখন থেকে সে আমাকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলেছে। শিক্ষকদের হাতে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকায় আমাকে ভয় দেখানো হতো। তার মন জুগিয়ে না চললে ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। আমরা প্রথম ব্যচে এই কলেজ থেকে ২৬জন পাস করেছি। গত ২৫ এপ্রিল ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করতে গেলে যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি।

এরপর ২৭ এপ্রিলও যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে পিতা মাতা ও অভিভাবকরা ওই শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর গত ৮ মে আমাকে যোগ দিতে দেওয়া হয়। তখন থেকে আমার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। আমাকে ১৪দিনের জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্লিনিক্যাল ইন্টার্নিতে পাঠানো হয়। আবহাওয়া ও শরীর অসুস্থ থাকায় দুইদিন কর্মস্থলে হাজির থাকতে পারিনি।

অনুপস্থিতির বিষয়ে গত ৩ আগস্ট দুপুরে আমাকে স্যারের রুমে ডাকা হয়। সেখানে ডেকে নিয়ে ওই শিক্ষক কু-প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হওয়ায় শিক্ষক আমাকে ঝাপটায়ে ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তার নির্যাতনে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

খবর পেয়ে আমার বাবা মা সেখানে হাজির হয়। এ ঘটনার বিষয়ে শিক্ষকের কাছে আমার বাবা মা জানতে চান। এসময় ওই শিক্ষক গার্ডদের দিয়ে আমার বাবা মাকে লাঞ্ছিত করে। বাবাকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শারমিন সুলতানা বলেন, অনেক টাকা খরচ করে এমবিবিএস পাস করেছি। ইন্টার্ন করতে গিয়ে শিক্ষকের রোষানলে পড়েছি। আমি কোর্স সম্পন্ন করতে চাই। আমার প্রতি যেন অবিচার না করা হয়, সেই দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শারমিন সুলতানার বাবা আলাউদ্দিন, স্বামী খন্দকার মুজাহিদুল ইমাম উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে আদ-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. খান শাকিল আহমেদ বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়। ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিল।

পরে তিনি ওই শিক্ষকের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান। শিক্ষক তাকে আশ্বাস দেন পরে তার বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু ইন্টার্ন চিকিৎসক সেখানে অনেক ক্ষণ দাড়িয়ে ছিলেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইন্টার্ন চিকিৎসকের বাবা এসে শিক্ষককে মারপিট করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


ঢাকা, ০৭ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।