‘ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব’


Published: 2017-07-10 19:48:33 BdST, Updated: 2017-09-24 12:55:34 BdST

 

লাইভ প্রতিবদেক: বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব’। 

সোমবার (১০ জুলাই) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী পর্যবেক্ষণ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। 

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ব্যাংকিং খাতের ভেতরে সুশাসন না থাকা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যথাযথ দেখভাল না করা ও অর্থ বিভাগের তদারকির ঘাটতি রয়েছে- এটা ঠিক। কিন্তু এগুলোর বাইরে সবচেয়ে বড় কথা হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। রাজনৈতিক সিগন্যাল না থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতারও প্রয়োগ করা যায় না। 

তিনি বলেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকত তবে মনিটরিংয়ের জন্য যে তিন-চারটা প্রতিষ্ঠান আছে, তারা তাদের কাছে থাকা ক্ষমতার পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারত। সিকিউরিটি এক্সেস কমিশনও ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে যে সংস্কার হচ্ছে না, এর মূল প্রতিবন্ধকতা ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক না, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার ব্যাপার না, এটার ব্যাপারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই। যদি সদিচ্ছা থাকত, তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগ ছিল না। রাজনৈতিক একটা সিগন্যাল না থাকলে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া যায় না। 

তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে সেটা ভালো। কিন্তু এটা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ সব ধরনের ব্যাংকের ক্ষেত্রে সুষমভাবে নেয়া উচিত। নির্বাচনের আগে যদি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেত তাহলে জনগণের উপকার হতো, জনগণ খুশি হতো। 

দেবপ্রিয় বলেন, ‘প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। দেশের আইনি এবং বেআইনি আয় দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে সৎ উপার্জনকারীরা করের চাপে থাকবে- এটা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ অর্থ উপার্জন ও পাচারকারীদের নাম-পরিচয় ঘোষণা হওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সৎ করদাতাদের মনোবল ভেঙে পড়ে। পাচাররোধ এবং প্রত্যক্ষ কর আদায়ে জোর দিতে হবে।’ 

সিপিডি মনে করে, বাজেটের ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নেওয়ায় সরকারের দায় বাড়ছে। এতে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। এটি মধ্য মেয়াদে টেকসই হবে না। ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। সিপিডি আরও মনে করে, সঞ্চয়পত্র সামাজিক সুরক্ষার বিষয় নয়। অন্যভাবে খরচ করে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিচালক আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ, অতিরিক্ত পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান।

 

ঢাকা, ১০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।