জবি ভিসির মন্তব্য, চালের পরিবর্তে আলু দিতে পারতো সরকার


Published: 2017-10-09 23:58:58 BdST, Updated: 2017-10-18 11:26:24 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে দশ টাকা মূল্যের চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয়া ঠিক হয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয় যদি মনে করে চালের সংকট রয়েছে, তাহলে চালের পরিবর্তে আলু দিতে পারত। রোববার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মীজানুর রহমান বলেন, সরকার ১০ টাকা দরে চালের পরিবর্তে একই দরে আলু বিতরণ করতে পারত। গরিব পরিবারগুলো ৫ কেজি করে আলু নিতে পারত। এতে তাদের কষ্ট লাঘব হতো। সরকারও আলুর যথাযথ ব্যবহার করতে পারত। চাল ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলক লাইসেন্স করানোর সিদ্ধান্তকেও আত্মঘাতী বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, চাল আমদানিকারক, মজুদদার, আড়ৎদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স করানোর সিদ্ধান্তটি আত্মঘাতী। এ সিদ্ধান্ত চালের দাম আরেক ধাপ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

ড. মীজানুর রহমান বলেন, গম-চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে খাদ্যমন্ত্রী বাধ্যতামূলক লাইসেন্স করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমন নির্দেশের ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। কিছু আমলা ও তার অধীনস্ত কর্মচারীরা লাইসেন্স দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘুষ গ্রহণ করবেন। শুরু হবে লাইসেন্সবাজি। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ীকেই ঘুষ দিয়ে লাইসেন্স করতে হবে। এই টাকা পুষিয়ে নিতে চালের দাম কমানোর চেয়ে বাড়াতে ব্যস্ত থাকবেন তারা। এর ফল জনসাধারণকেই ভোগ করতে হবে।

১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব কমোডেটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নিতে গেলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হবে।

লাইসেন্স ফি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লাইসেন্স নিতে গেলে একদিকে ব্যবসায়ীদের ফি দিতে হবে, অন্যদিকে তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হবেন। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে।

ভিসি বলেন, দুই বছর আগে খাদ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম, খাদ্য গুদামের কাগজপত্র অডিট না করে সরাসরি গুদামে গিয়ে অডিট করতে। গুদামে যদি চাল নাও থাকে চোরাকারবারিরা কাগজে ঠিকমতো হিসাব লিখবে।

তিনি বলেন, এসব না করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে একসভায় বলেছিলাম, আপনি প্রতিটি খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন। ঠিকভাবে খোঁজ-খবর নেন। আপনি দেখেন, চাহিদা অনুযায়ী ১০ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য মজুদ আছে কি না? এ খবর নিজে না নিয়ে, স্বশরীরে না দেখে; দুর্নীতিবাজ আমলাদের দিয়ে খবর নিলে হবে না। আর এটাই তো একজন খাদ্যমন্ত্রীর আসল কাজ। খাদ্যমন্ত্রী নিজে দেখে যখন বলবেন, আমাদের খাদ্য ঘাটতি নেই তখন আর চাল ব্যবসায়ীরা আর দাম বাড়ানোর সাহস করবে না।

তিনি বলেন, সরকার যদি ঘোষণা দিতে পারে তাদের গুদামে ১০ লাখ মেট্রিকটন চাল মজুদ আছে। তাহলে ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়ানোর সাহস দেখাবে না।

ড. মীজানুর রহমান আরো বলেন, আপনারা খেয়াল করে দেখেন, আলুর মৌসুম আসছে। গতবারের উৎপাদিত ব্যাপক পরিমাণ আলু সরকার মজুদ করে রেখেছে। নতুন আলু হয়ত দুই তিন মাসের মধ্যে কৃষকরা ঘরে তুলবে। পুরনো আলু যদি এখনই বাজারে না ছাড়ে তবে সেগুলো পচে যাবে।

  

ঢাকা, ০৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।