লাভজনক হলেও, রাবিতে ফেলে রাখা হয়েছে শত বিঘা জমি


Published: 2017-08-26 18:45:45 BdST, Updated: 2017-09-24 12:45:16 BdST

 

মনিরুল ইসলাম নাঈম,রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কৃষি প্রকল্প। ১৪-১৫ অর্থবছরে যেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় অর্ধকোটি টাকারও বেশি। গত ১ দশকে সর্বোচ্চ আয় হয় এ বছরই। বৃদ্ধি পেয়েছে তিনগুণ আয়। তবে প্রকল্পের শত বিঘা আবাদি জমি ফেলে রাখা হয়েছে। 

এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় যেমন একদিকে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে দিনে দিনে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে জমিগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমিগুলোর পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষনের পর্যাপ্ত অভাব রয়েছে। তবে দায় এড়াতে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার দাবি তুলছেন কর্তৃপক্ষ। বলছেন সম্পূর্ণ জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জমিগুলো লিজ দেওয়ার চিন্তা করছেন তারা। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রকল্পের আওতায় শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্বপাশ থেকে শুরু করে পাশ্ববর্তী বুধপাড়া। অন্যদিকে আইবিএ ইনস্টিটিউট থেকে রাজশাহী বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগার পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২শত ৫০ বিঘার অধিক আবাদি জমি রয়েছে। এই জমির চাষ হচ্ছে প্রায় ১ শত ৫০ বিঘা জমি। জমিগুলোতে ধান, আখ, ডালসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় পুকুর ডোবা ও বাগ বাগিচা অন্তর্ভূক্ত। 

চাষ হওয়া জমি থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কৃষি প্রকল্পের আয় হয় ৭২ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯০ টাকা। ব্যয় ২৯ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৪ টাকা। খরচ বাদে লাভের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা। আর ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ব্যয় হয় ১৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। আয় হয় ২৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল এই এক দশকে কৃষি প্রকল্পের আয় বেড়েছে ৩ গুণ। আর লাভ হয়েছে প্রায় ১০ গুণ টাকা। 

তবে লাভজনক এই প্রকল্পে অতিরিক্ত শত বিঘা আবাদি জমি ফেলে রাখা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ আবাদি জমির প্রায় অর্ধেক। আবার ২ বছর যাবৎ চাষ হচ্ছে না এই জমিগুলো। 

এদিকে যে জমিগুলো চাষ হচ্ছে তাতে আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছেনা কৃষি প্রকল্প। লাঙল জোয়ালের চাষ পদ্ধতি এখনও চলমান। জমি চাষের জন্য ১২ টি বলদই একমাত্র ভরসা। একটা ট্রাক্টর ক্রয় করলেও চালকের অভাবে অধিকাংশ সময় পড়ে থাকে। ভাড়া করা ট্রাক্টর দিয়ে জমিতে চাষ দিতে হয়। তাছাড়া চাষ উপযোগী ফসল আবাদ করাও হচ্ছেনা বলে দাবি সংশ্লিষ্টরা। বলছেন টাকার অংকে হিসাব করলে শত বিঘার অধিক জমি পড়ে থাকায় আরও অর্ধকোটির বেশি টাকার সুবিধা পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়। 

একই সাথে শত বিঘা জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকা, নামমাত্র ফসল আবাদ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার হচ্ছেনা  বলেই প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি তাদের। 

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আয় ক্যাম্পাসের উন্নয়ন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিসহ বহুবিধ উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এরই মধ্যে কৃষি প্রকল্পের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহার সমাধী সংস্কার, মেডিকেল সেন্টারের ডিজিটালাইজেশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর সংস্কারসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন উন্নয়ণ কাজ ইতমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। 

কৃষি প্রকল্প থেকে বর্তমানের তুলনায় আরও লাভবান হওয়া সম্ভব জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রফেসর আহমেদ ইমতিয়াজ বলেন, কৃষি প্রকল্পের আওতায় যে সকল জমি আছে তাতে সময়উপযোগী ফসল চাষ ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে চাষাবাদ, সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা করলে কর্মচারিদের বেতন ভাতা দিয়ে এটিকে বড় ধরনের লাভজনক একটি প্রকল্প হিসাবে দাড় করানো সম্ভব। 

এপ্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, মান্দাতা আমলে যেভাবে চাষ হচ্ছিল সেভাবেই রয়ে গেছে। পরিকল্পিত চাষ নেই।

ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রফেসর সাইফুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, কৃষি প্রকল্পে এমন লোকদেরকে রাখা হয়েছে যাদের সাথে কৃষির কোন সম্পর্ক নেই। কৃষি বিষয়ে ধারণা নেই তাদের বলে দাবি তার। যথাযথ পরিচর্যা, সুপরিকল্পিত ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে আরও বেশি লাভবান হওয়া যাবে বলে জানান তিনি। 

তবে পরিচর্যা ও আধুনিক চাষ পদ্ধতির ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষি প্রকল্প পরিচালক এমরান আলী কোন কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। 

তবে এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভিসি ও কৃষি প্রকল্পের সভাপতি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, জমি ফেলে রাখা হয়েছে এমনটা নয়। জমিগুলো চাষ উপযোগী তবে লোকবলের কারণে চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে জমিগুলো লিজ দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। 

আর আধুনিক চাষ পদ্ধতির বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্বে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা কেন আধুনিক যন্ত্রপাতি বা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করেন নি সেটা তাঁরাই ভাল জানেন। 

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তিকে দখলের হাত থেকে রক্ষা করতে ১৯৭৬ সালে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প নামের এ প্রকল্পটি চালু করে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

ঢাকা, ২৬ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।