বখাটের বাড়াবাড়ি, প্রাণ দিল ক্লাসের ফার্স্টগার্ল


Published: 2017-10-10 00:28:15 BdST, Updated: 2017-11-20 19:15:34 BdST

বগুড়া লাইভ : দুপচাঁচিয়ায় বখাটে হুজাইফাতুল ইয়ামিনের বাড়াবাড়িতে প্রাণ গেছে স্কুলছাত্রীর। মেধাবী ওই স্কুলছাত্রী রোজিফা আকতার নিজের জীবন দিয়ে ওই অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ নিয়েছেন। নিজ ঘরে গলায় ওড়নার ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সে তার ক্লাসে ফার্স্টগার্ল ছিল।

উপজেলার জিয়ানগর মন্ডলপাড়ার বাড়িতে রোববার এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে ওই ছাত্রীর বাবা দুপচাঁচিয়া থানায় ইয়ামিন ও তার বাবা মীর আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

রাতে পুলিশ গ্রাম থেকে মীর আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করলে স্বজন ও গ্রামবাসীরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ওয়াকিটকিসহ তাকে ছিনিয়ে নেন। তাদের মারপিটে তিন কর্মকর্তাসহ ৫ পুলিশ আহত হয়েছেন।

এঘটনার পর সোমবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামে ব্লকরেইড দিয়ে ২৬ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলার শিকার এসআই আবদুর রহিম থানায় পুলিশের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আসামী ও ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেয়ায় ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গ্রেফতার ও হয়রানি এড়াতে হেরুঞ্জ, মহিষমান্ডা ও বজরাপুকুর গ্রাম পুরুষ শূন্য এবং দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে।

পুলিশ, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীরা জানান, দুপচাঁচিয়ার জিয়ানগর ইউনিয়নের জিয়ানগর মন্ডলপাড়া গ্রামের গোলাম রব্বানীর এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় রোজিফা আকতার জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর (বিজ্ঞান, রোল-১) ফার্স্টগার্ল ছিল। রোজিফা স্কুল ও প্রাইভেট পড়তে যাতায়াতের পথে পার্শ্ববর্তী হেরুঞ্জা মীরপাড়ার মীর আমিনুর রহমানের ছেলে বখাটে হুজাইফাতুল ইয়ামিন তাকে উত্যক্ত করে আসছিল। ছাত্রীর বাবা বিষয়টি ছেলের বাবা আমিনুর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। এতে ইয়ামিন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

রোববার সকালে ছাত্রী কোচিং ও স্কুলে যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। দুপচাঁচিয়া সদরে কোচিং শেষে স্কুলে যাবার চেষ্টা করলে পথিমধ্যে ইয়ামিন তাকে উত্ত্যক্ত করে। স্কুলে না গিয়ে রোজিফা বেলা দেড়টার দিকে বাড়িতে ফিরে তার বাবাকে বিষয়টি জানায় এবং তাকে উত্ত্যক্ত বন্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চায়। বাবা এ ব্যাপারে থানায় ও চেয়ারম্যানের কাছে যাবার আশ্বাস দিয়ে ব্যাংকে জান। মা বাথরুমে গেলে মনক্ষুন্ন রোজিফা নিজ ঘরে ঢুকে ঘরের তীরের সাথে মায়ের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। সন্ধ্যার দিকে ছাত্রীর বাবা গোলাম রব্বানী দুপচাঁচিয়া থানায় ইয়ামিন ও তার বাবা আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলা করেন।


ঢাকা, ১০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।