'পাপ থেকে পরিত্রাণের জন্যই বড়দিন'


Published: 2016-12-25 16:56:29 BdST, Updated: 2017-09-20 13:19:38 BdST



জবি লাইভ: নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন পালিত হচ্ছে। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর পুরান ঢাকার লাক্ষ্মীবাজারের পবিত্র ক্রশ গির্জাকে সাজানো হয়েছে নানা ভাবে। গতকাল শনিবারই বর্ণিল আলো, ক্রিসমাস ট্রি, জরি, কাগজের বাহারি নকশায় সাজানো হয় গির্জাটি।

আজ (রবিবার) সকাল থেকেই নানা বয়সী ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে গির্জার প্রার্থনা-সভাতে।

এর আগে গতকাল দিবাগত রাত আটটা থেকে লক্ষ্মীবাজারের পবিত্র ক্রশের গির্জায় মহা-ক্রিষ্টযাগ শুরু হয়ে, চলে রাত বারোটা পর্যন্ত। পৌরোহিত্য করেন ফাদার জ্যামস্ শেমল। এমনকি আজ সকালেও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

সূত্রাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোঃ জালাল উদ্দিন (পিপিএম) ক্যাম্পাসলাইভকে জানান,“গতকাল থেকে গির্জা ফটকে ২৫ জন পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে বড়দিনের উৎসবটি পালন করছে সবাই।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আদি বাইবেলের ভবিষ্যৎবাণী অনুসারে, কুমারী মেরির গর্ভে তাদের মসিহ বা ত্রাণকর্তার জন্ম হবে। স্বামী জোসেফের সঙ্গে বেহেম শহরে আসেন মেরি। আর এখানেই তার গর্ভে জন্ম হয় যিশুর। প্রচলিত কিছু কাহিনী অনুসারে একটি আস্তাবলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যিশু। যদিও বাইবেলের উপাখ্যানে আস্তাবল বা গবাদি পশুর কোনো উল্লেখ নেই। যিশুর জন্ম-সংক্রান্ত প্রথম দিকের চিত্রগুলিতে গবাদি পশু ও যাবপাত্র বেষ্টিত একটি গুহায় যিশুর জন্মদৃশ্য দেখানো হয়। তবে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মতে, যিশুর জন্মস্থানটি বেথেলহেমের চার্চ অফ দ্য নেটিভিটির ভেতরে অবস্থিত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকল ধর্মের মানুষের জন্য গির্জা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদরে মধ্যে মুসলিম, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাও কম নয়।

বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নাবিলা ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমাদের ধর্মীয় উৎসব না হলেও বড়দিনের উৎসব দেখতে আসছি। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী সনাতন ধর্ম অনুসারী অরূপ সরকার ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ধর্মনিরেপেক্ষ দেশ হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা দেখি ঈদে প্রায় সব ধমের্র মানুষ আনন্দে মেতে উঠে। আবার হিন্দু ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্মের উৎসব গুলোতে মুসলমানদেরও দেখা যায়।’

প্রথম দিকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য বড়দিন একটি বাৎসরিক উৎসব ছিল। পরে পরিণত হয়েছে এই সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবে। তাই প্রতি বছরের ২৫ ডিসেম্বর বেশ সমারোহের সঙ্গেই পালন করা হয় এ দিনটি। চার বছরের বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীবাজারের পবিত্র ক্রশের গির্জায় দায়িত্বে থাকা ফাদার জ্যামস্ শেমলের ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ‘প্রথমত আমি বাঙ্গালি তারপর আমি খ্রিস্টান। আমি যদি অপর ধর্মকে সম্মান না করি তাহলে আমি আমার ধর্মকে ছোট করছি। এখানে ভালোবাসা দরকার, করুণা দরকার, দয়া দরকার। নিজেদের ধর্মকে বড় করে না দেখে সব ধর্ম ভালো বা সমান মনে করতে হবে। ধর্ম নিয়ে গৌরব করার কিছু নেই। প্রায় সব দেশে সকল ধর্মের লোক আছে। তাই সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে’।



ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।