চরমোনাই মাদ্রাসায় ওলামা সম্মেলন


Published: 2017-02-26 21:05:57 BdST, Updated: 2017-09-22 23:13:41 BdST



লাইভ প্রতিবেদক: চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলের ২য় দিনে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আগত ওলামা মাশায়েখদের উপস্থিতিতে বিশাল ওলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১ টায় ওলামা সম্মেলনে সৌদী আরব, ওমান, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিবর্গের আগমণের কারণে ৪টি বিশাল মাঠের লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

চরমোনাই পীর সাহেবের আমন্ত্রণে মাহফিলে যোগ দিতে আজ সকালে সৌদী রাজকীয় সরকারের একটি প্রতিনিধি দল চরমোনাইতে আসেন। প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা ইবরাহীম ইবনে আব্দুল আজীজ আয যায়েদ, সৌদী সরকারের সর্বোচ্চ উলামা কাউন্সিলের সদস্য ও মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সাদ বিন তুর্কী ইবন মুহাম্মাদ আল খাচলান, রিয়াদ জামিউল ইখলাসের ইমাম ও খতীব মুহাম্মদ সালেহ মুহাম্মাদ আস সামেরী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জাইফুল্লাহ আল মাতিরী, সালেম সাইদ ইবনে সালেহ আব্দুল আযীযসহ সৌদী রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

বেলা ১২টায় চরমোনাই ময়দানে আগমণ করলে পীর সাহেব মুফতি সৈয়দ মো: রেজাউল করীম, নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মো: ফয়জুল করীম ও আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মো: মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী তাদেরকে স্বাগত জানিয়ে লাল গালিচা সংবধর্¦না প্রদান করেন।

পরে তারা জামিয়ার কার্যালয়, কুরআন শিক্ষা বোর্ড অফিস ও মাহফিলের প্যান্ডেলসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইবরাহীম ইবনে আব্দুল আজীজ আয যায়েদ বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজীজ এর পক্ষ থেকে এসেছেন।

তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, চরমোনাইর পুরো ময়দান জুড়ে যেন নূর চমকাচ্ছে। তিনি ঈমানী এই দলের সাথে থাকতে সকলের প্রতি আহবান জানান। এখানে আসতে পেরে তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং বলেন, আমাদের নীতি হলো বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি পীর সাহেবের পরিবারকে পবিত্র পরিবার উল্লেখ করে তাকে মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজক এবং আসার ব্যবস্থা করে দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

সাদ বিন তুর্কী ইবন মুহাম্মাদ আল খাচলান তার বক্তব্যে বলেন, পঙ্গপালের মতো অসংখ্য মানুষ দুনিয়ার কোন উদ্দেশ্যে নয় শুধুমাত্র আল্লাহকে পাওয়ার জন্য এখানে ছুটে এসেছেন। তিনি সকল মুমিনকে একটি দেহের ন্যায় উল্লেখ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। তিনি, ঈমান, নামাজ, ইলম ও মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় জোড় দেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর পীর সাহেব চরমোনাইর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওলামা সম্মেলনে বিশ্ববরেণ্য ওলামা-মাশায়েখসহ দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য রাখেন। বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপিঠ ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিমের প্রতিনিধি হিসেবে আসেন নায়েবে মুহতামিম আব্দুল খালেক সাম্বলী, শায়খে সানী আল্লামা কমর উদ্দিন, নাজেমে তালীমাত আল্লামা ইউসুফ তাওলুভী, সাবেক নাজেমে তালীমাত আল্লামা মুজিবুল্লাহ।
মক্কা শরীফের বাসিন্দা বিশ্ববরেণ্য মাশায়েখ আল্লামা আব্দুল হাফিজ মক্কী রহ. এর ২ ছেলেসহ ৭জন আওলাদ উপস্থিত ছিলেন। তন্মধ্যে ১ ছেলে বক্তব্যে তাদের মরহুম বাবার জন্য দোয়া কামনা করেন।

উল্লেখ্য মরহুম আব্দুল হাফিজ মক্কী গত বছর মাহফিলে এসে বক্তব্য রেখেছিলেন। বক্তব্য রাখেন, ওমানের মাসকাট উলুমে শরইয়্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার খালিদ ইবনে মুহাম্মাদ সালেম আবদালী। তিনি বলেন, যারা কুরআনের বিরোধিতা করবে তারা ধ্বংস হবে।
মুসলমানদেরকে কুরআন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। দেওবন্দের আল্লামা আব্দুল খালেক সাম্বলী বলেন, যুগে যুগে কাদিয়ানীসহ বাতিলগোষ্ঠী চেষ্টা করেছে মানুষকে আলেমদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে, কিন্তু তারা সক্ষম হয়নি। তাই আলেমদেরকে সতর্ক থেকে দ্বীনের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

বক্তারা চরমোনাইকে বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের সহিহ দাওয়াতী মারকায হিসেবে অভিহিত করেন। বিদায়ের পূর্বে সৌদী মেহমান ভালবাসার নিদর্শনস্বরূপ সৌদি বাদশাহর পাঠানো নানাপ্রকার সম্মানজনক উপহার সামগ্রী পীর সাহেব মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীসহ পরিবারের সকল সদস্যের হাতে তুলে দেন।

দেশের শীর্ষ ওলামাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামিল মাদরাসা বগুড়ার মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল হক আজাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, তেজগাঁও মাদরাসার মুহাদ্দিস ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ, বরিশাল মাহমূদিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগের শায়খুল হাদীস মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ।

নাজিরহাট বড় মাদরাসার মুহতামিম মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মুফতী হেমায়েতুল্লাহ, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, জামিয়া মুহাম্মাদিয়া মুহাম্মাদপুরের প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, দারুল উলুম মিরপুর-১৩ এর মুহতামিম মুফতী রেজাউল হক আব্দুল্লাহ, মাদানীনগর মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতী বশিরুল্লাহ, মাওলানা আব্দুস সাত্তার (পীর সাহেব গালুয়া), মাওলানা মুফতী মাহমুদুল হাসান ওয়ালিউল্লাহ (পীর সাহেব বরগুনা)। সঞ্চালনায় ছিলেন, মাওলানা আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা নেছার উদ্দিন ও মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী।

বিকেল এবং রাতেও ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দের শীর্ষ ওলামাসহ দেশী বিদেশী ওলামায়ে কেরাম বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে। মাহফিলের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রবিবার সকাল ১১টায় ছাত্রদের উদ্যোগে ছাত্র-গণজমায়েত ও ২৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার সকাল ৮টায় আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এ মাহফিলের সমাপ্তি ।

 

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।