বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অমিমাংসিত কিছু মুহূর্তের নির্মম ভালোবাসা


Published: 2016-11-18 11:56:59 BdST, Updated: 2017-09-20 13:24:50 BdST

প্রমিজ বৈদ্য : বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জীবনে থাকে অনেক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি। অপ্রকাশিত থেকে যায় ভালোবাসা। কিছু ভালোবাসা হতে হতে চিরদিনের জন্যে হারিয়ে যায়। নতুন নতুন মুখ আসে, ঝুপড়িতে চলে দম ফাটানো আড্ডা, নতুন হাত ধরে প্রিয় মানুষটি ঘুরে আসে রাতের অন্ধকার। শাটলে চড়ে যায় থিয়েটার, শিল্পকলা কিংবা পতেঙ্গার সন্ধ্যায়...

পড়ে থাকে মুক্তমঞ্চ, জিরো পয়েন্ট, দোলা সরণী...তারপর নিরালা, নিঃঝুম অন্ধকার....
.
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অমিমাংসিত কিছু মুহূর্তের নির্মম ভালোবাসার কয়েকটি কবিতা এখানে তুলে ধরা হল --
.
ক্যাম্পাস সিরাপ -- ১
.
ডাক দিয়ে দ্যাখো তুমি একবার--
.
আমি তো জলের বাঁশি,মেঘ ডেকে যাই ;
তুমি কেন বোঝ না, আকাশ ভারী,তবে ঝরি একবার...
.
ওগো পাহাড়ী লতা,বনের কুসুম,নদী-জল-ভাঁটফুল,
বোঝাও তারে -আমি পুড়ি দিনমান,দেখাই নারে...
দু'চোখে খরার প্লাবন,বুকেতে শূন্য হাওয়া
তুমিহীন থেমে যায় হাতের সময়,ফালা ফালা হয় কেটে সুখের চলন।
.
দেখে নাও একবার,নীরব কথা রক্তপাতে ডুবে যাচ্ছে,
শূন্য রাস্তা একাকী পড়ে আছে,দুই হাত নীল,বিষেতে সারা...
হও তুমি একবার গোপন সিরাপ আমার
একাকী ভীষণ।
.
ক্যাম্পাস সিরাপ - ২
.
আমাকে রেখে তুমি যাও কোন দেশে?
কোন ফুলে লাল হও,কোন জলে ঢেউ?
কার বুকে হও ঝড়,মাতম সাগর?
.
সবুজ পাতারা কয় --
ছায়ার আল্পনা পথে কি রয়...
আমি বলি,গাছ তুমি ফলবতী হও;
ফুটাও তুমি তার সুখফুল।
.
নাজিমের ঝুপড়ি, তুমি তো জানো --
তোমার চায়ের কাপে কার ঠোঁট চুমু খায়।
পাখায় পাখায় দিন চলে যায়,
হায়, মোর ফুলবতী, জলের সাগর!
দ্যাখো, মেঘে মেঘে আজ আমি কতটা নাগর!
.
ক্যাম্পাস সিরাপ -- ৩
.
চলো না ঘুরে আসি বৃষ্টিতে --
জানালা কি রেখেছো খুলে?
দেখ না চেয়ে তুমি একবার,
পথগুলো জলে জলে কতটা কাঙাল।
ছাতাহীন মেঘ দিয়েছে খুলে সমস্ত কপাট,
দোকানপাট বন্ধ গো আজ;
চলো না দুজনে জলের হোলি খেলি।
.
ট্রেন গিয়েছে চলে খানিক বাদে;
জিরো পয়েন্ট সুনসান,মেহগনি গাছগুলো স্বজনহারা।
দুটি পাতিকাক ভিজে চুপচাপ,
বাজার বসবে না আজ,
চলো না দুজনে উৎসব করি।
.
টিউশন বাদ থাক,রান্না চুলোয় যাক;
আজ ভেজাবো তোমাকে ফুলমতী।
তুমি চুল খুলে লাল টিপ দিয়ে এসো,
আমি নগ্ন পায়ে দাঁড়িয়ে ভর বৃষ্টিতে প্রতীক্ষারত।
.
ক্যাম্পাস সিরাপ - ৬

অস্থির শূন্যতা চেপে চলে যাচ্ছি
যেহেতু তুমি বুঝলেই না, হে পতঙ্গবিশারদ,
আকাশটা ডানা ভেঙে কেন এতটা কাছে,
কেন সারাটা রাত জলে জলে ভরে উঠল
জিরো পয়েন্ট, স্টেশন, দোলা সরণী।

কাল সারাটা রাত ছিল গৃহহীন।
জলজ হাওয়ায় ভেসেছে এককোটি পতঙ্গ,
চন্দ্রাতপে ভিজে গেছে মৌরিলতারা;
কাল সারাটা রাত ফুলে ফুলে জেগে ছিল একটি জারুল,
তবু তুমি অবুঝ মাছের সাঁতারে পার হয়ে যাও সীমান্তরেখা।
সন্ধানী চোখ তোমার, তবু তুমি দেখলে না-
ভালোবাসাহীন পতঙ্গহোলিতে লাল হলো সমস্ত সকাল,
সারাটি দুপুর ভালোবাসার ফানুস উড়িয়ে চলে গেল কেউ শূণ্যতা চেপে।

.
ক্যাম্পাস সিরাপ - ৭
.
আমাদের কখনও প্রেম হলো না, বিচ্ছেদ হল।
আমাদের ভাঙন ছিল নদীর জলের মত শান্ত।
.
আজ, রাতভর বৃষ্টি হতে পারে, তোমার জানালায় ফুটতে পারে রক্তজবা।
আজ তোমাকে খুঁজে আমার অসুস্থ চোখ পুড়ে গেছে,
বিদায়ের সাজ তাই ভুলে গেছি, পতঙ্গবিশারদ।
তুমিও ভালো নেই শুনেছি মেঘের চিঠিতে।
আমারও বুকের ডালপালা ভেঙে গেছে ঝড়ে।
.
কবেকার কোন রাফখাতা উড়ে গেছে হাওয়ায়,
কবে ঘুম ভেঙে পাখিদের নীড় আর যায় নি দেখা,
ক্ষতি কী হয়েছে, তাই না অতীত পাখি?
.
আজ রাতভর বৃষ্টি হতে পারে,তোমার জানালায় উড়তে পারে ছিঁড়ে ফেলা কবিতার পালক।
আজ ভীষণ শীত এসেছে শরীরে,
আজ ভীষণ বৃষ্টি হবে রাতভর।
পতঙ্গবিশারদ,তোমার আমার বিচ্ছিরি শত্রতা
লেখা আছে কবেকার কোন ছেঁড়া ডায়েরীতে যেন...
আজ তোমাকে কবিতার ফানুস বানাবো,
যতোটা রাত বাড়ে না বাড়ুক...



প্রমিজ বৈদ্য
ইংরেজি বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[কার্টেসি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ]



ঢাকা, ১৮ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।