ক্যাম্পাসের পারফেক্ট জুটি বনাম নিঠুর বাস্তবতা


Published: 2016-12-26 01:16:02 BdST, Updated: 2017-11-20 03:30:06 BdST

আফরিন ফেরদৌস : ক্যাম্পাসের পারফেক্ট জুটি। মেয়েটি যেমন সুন্দরী ছেলেটাও তেমন স্মার্ট। তাদের প্রেমকাহিনী জানেনা এমন কেউ নেই ক্যাম্পাসে। এমনকি টিচাররাও জানেন ওদের কথা। সারাদিন একসাথে থাকে, একসাথে ক্লাস, লাইব্রেরিতে পড়া, খাওয়া দাওয়া, ঘোরাঘুরি শুধু রাত ১০টা বাজলে যে যার হলে।

তাও থেমে নেই ওরা, ফোনে কথা বলা, চ্যাটিং চলছে রাতভর। কেউ কাউকে ছাড়া একমুহূর্ত থাকতে পারেনা। প্রেমটা সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকেই, সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে দুজন। কত স্বপ্নের জাল বুনছে সারাক্ষণ। পড়া শেষ করে চাকরি করবে, বাসায় জানাবে ওদের সম্পর্কের কথা তারপর বিয়ে করবে, আর কত কী।

সেকেন্ড ইয়ার ফাইনাল শেষ, ক্যাম্পাস ছুটি দুজনেই বাসায় যাবে। কিন্তু কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে চায় না এমনি এক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছে দুজন। কিন্তু কি আর করা, যেতে তো হবেই। তবে ফোন তো আছে। কথা হবে, দেখাও হবে। বাসায় এসেও লুকিয়ে চুরিয়ে দুজনার প্রেম চলতে থাকে পুরোদমে।

একদিন সকালে বলা নেই, কওয়া নেই মেয়েটির পরিবার ওকে জানায়, আজ ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে। মেয়েটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। কিছুতেই রাজি হয়না সে, আপত্তি জানালে বাসা থেকে অনেক বকাবকি করে, কেড়ে নেয় ওর ফোন। কি করবে সে? কেউ তার কথা শুনছে না। নিজের মনের বিরুদ্ধে পরিবারের ইচ্ছায় সেজেগুজে হাজির হয় পাত্র পক্ষের সামনে। মেয়েকে পছন্দ করে আংটি পড়িয়ে যায় তারা।

কষ্টে বুকটা ফেটে যেতে চায়। কী করবে সে? পালিয়ে যাবে? কিন্তু কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে? রাগে কষ্টে মরে যেতে ইচ্ছে করে ওর। কেন সবাই এমন করে,কেন কেউ ওর কথা শুনতে চায় না। এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে হয়ে যায় ওর। কিছু করার নেই। তাই ভাগ্যের হাতেই ছেড়ে দিয়েছে নিজেকে।

ওদিকে ছেলেটার পাগল পাগল অবস্থা, কোন খোঁজ পাচ্ছে না মেয়েটির। ঠিকমত খেতে পারছেনা, ঘুমাতে পারছেনা দিশাহারা অবস্থা ওর। কী হল মেয়েটির? কোন খারাপ খবর না তো? ভালো আছে সে???

অবশেষে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে দুজনেই। মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে কথাটি শোনার পর ছেলেটি কিছুই করতে পারছেনা। সারাদিন চুপচাপ ঘরে বসে থাকে, জীবন থেমে গেছে তার। সবাই মেয়েটিকে ঘৃনার চোখে দেখে।

ছি ছি..মেয়েরা এমনই হয়। প্রতারক... ছলনাময়ী। এতদিন সব অভিনয় ছিল....সবাই ছেলেটাকেই সান্ত্বনা দেয়। ও যেহেতু তোকে ভুলতে পেরেছে তুইও ভুলে যা। ওইরকম মেয়ে কত আসবে যাবে। ওইরকম ফালতু মেয়ের জন্য জীবন নষ্ট করবি নাকি?

টাকাওয়ালা ছেলে পেয়েছে তাই তোকে ভুলে গেছে। ছেলেটাও চেষ্টা করে ওকে ভুলে যেতে....
কিন্তু মেয়েটি আর কোনদিন চোখ তুলে তাকায়নি ছেলেটার দিকে। কিভাবে তাকাবে?
সে যে প্রতারক, লোভী। সেও ভালো থাকার চেষ্টা করে সব ভুলে, চেষ্টা করে হাসি খুশি থাকার কিন্তু দিনশেষে ওই অসীম আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখের কোনে দুফোটা জল ঠিকই জমে, কোথায় যেন এক অপূর্ণতা, একটা হাহাকার। তখনি বাসা থেকে ফোন আসে। মায়ের ফোন, কিরে মা, ভালো আছিস???

হ্যাঁ, মা। খুব ভালো আছি, খুব। সবার হাসিমুখের মাঝে বিলীন হয়ে যায় দু'ফোটা চোখের পানি, হারিয়ে যায় সব না পাওয়া, হাহাকার।

তখন মনে হয়, জীবনটা খুব বেশি খারাপ না। বেশতো, ভালোই আছি।



ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।