প্রেম আসল, নীরবে নয় ব্যান্ড পার্টি বাজিয়েই...


Published: 2017-03-04 02:09:06 BdST, Updated: 2017-11-18 16:10:05 BdST

মীম : ফেসবুকে শুধুমাত্র একটা ছবি দেখে প্রেম পড়ে যাওয়া আজকাল ডাল ভাতের মতো ব্যাপার হয়ে গেছে। বন্ধুরা যখন ফেসবুকে যার তার প্রেমে পড়ে ছ্যাঁকা খেয়ে বাঁকা হওয়ার পথে তৃধা তখন লাভ এট ফার্স্ট সাইটে মোটেও বিশ্বাসী নয়। প্রেমটাই যেন রীতিমতো ন্যাকামি ওর কাছে।

তবু তার জীবনে প্রেম আসল, নীরবে নয় বরং বেশ ব্যান্ড পার্টি বাজিয়েই আসল। মূল কথায় আসি। তৃধা আমার গল্পের নায়িকা। হাসিখুশি, ভীষণ চঞ্চল, জীবন মানে যার কাছে শুধু আড্ডা, মাস্তি। প্রচন্ড মিশুক মেয়েটা বন্ধুমহলে মিস সল্যুশন নামেই পরিচিত, কারণ পৃথিবীর এমন কোন সমস্যা নেই যার সমাধান তার যুক্তির (৯০% কুযুক্তি) মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। বন্ধুমহলে যতটা জনপ্রিয় ফেসবুকেও তার কম নয় সে। বলতে গেলে ফেসবুকের একটিভ সিটিজেন নামে খ্যাত আমার গল্পের নায়িকা।

আর ফেসবুকই তার জীবনটা পাল্টে দিল। একদিন তৃধা অপরিচিত এক লোকের মেসেজ পেল ফেসবুকে।

-আপনার সাথে কী একটু কথা বলতে পারি?

-জ্বি বলুন।

-কেমন আছেন?

-ভালো। আপনি

-খুব একটা ভালো না।

-কেন? কি হয়েছে?

-অনেক বড় ঝামেলাতে আছি। তবে আপনি সাহায্য করলে আমার সমস্যার সমাধান হতে পারে।

-আমি!!!কিভাবে? আমাকে চেনেন আপনি?

মেসেজের রিপ্লাই নাই। সন্দেহ জাগল মনে, তৃধা আইডি ঘেটে জানতে পারল ছেলে তার ক্যাম্পাসেরই, ব্যাচমেট। কৌতুহল জাগল কিন্তু অনেকদিন কেটে যাওয়ার পরও যখন উত্তর এল না তখন তৃধার অবচেতন মন ভুলতে বসল তাকে।

বেশ কয়েকমাস পর আবার সেই ছেলেটার মেসেজ। কুশলবিনিময়ের পর যে বার্তালাপ তাদের মধ্যে হল তার সারমর্ম হচ্ছে ছেলেটা একটা মেয়েকে পছন্দ করে যার নামও তৃধা। যাকে গত দেড়বছর ধরে লুকিয়ে রাখা মনের কথাটা সে বলতে পারছে না। তার দৃঢ় ধারণা নামের মিলের সাথে সাথে মানসিকতাও মিল থাকবে তাদের তাই তৃধার কাছে সাহায্য চাওয়া।

মিস সল্যুশন তৃধা আমার গল্পের নায়িকা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সাহায্য করতে চাইল ছেলেটাকে। একটা মেয়ে কেমন হয়, কি পছন্দ অপছন্দ সব কিছু নিয়ে আলোচনা হত। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব তারপর ফোন নাম্বার আদান প্রদান। রাত জেগে হাজারো কথার মাঝে তৃধা ভুলেই গেল ছেলেটা ঠিক কি কারণে ওর সাথে যেগাযোগ করেছিল।

একটা ছেলে ও একটা মেয়ে যখন দিনের বেশীর ভাগ সময় একসাথে কাটায় তখন তাদের মধ্যে স্বভাবতই বন্ধুত্বের চেয়ে বেশী কিছু মূলক সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মাঝেও তেমনটাই হল। তৃধা ছেলেটির প্রতি অনেকটাই দূর্বল হয়ে গেল, কোথাও একটা ভালো লাগা কাজ করতে লাগল।

একদিনের কথোপকথন :
-তৃধা, আমি তোমাকে আমার ভালোবাসার মেয়েটার কথা বলেছিলাম না, তাকে কাল মনের কথাটা বলে দিব।

-তাই, কিন্তু সে কি মেনে নেবে তোমাকে? তোমাকে সে চিনেও না।

-আমি যে তাকে না বলে থাকতে পারছি না। হোক যা খুশি বলতে তো আমাকে হবেই।

-যা ভালো বুঝো কর।

কথাটা বলতে গিয়ে কয়েকবার চোখের জলটা মুছে নিল তৃধা। জীবনের প্রথম ভালো লাগাটাকে এখানে মাটি চাপা দিয়ে আইডি ডিএকটিভ করে নিল। ফোন নাম্বারটা ব্লক করতে চেয়েও কেন জানি করল না। হয়তো মায়ার প্রভাব।
সারা রাত জেগে গত তিনমাস ধরে ছেলেটার বকে যাওয়া হাজারো কথা মনে করতে করতে কখন জানি ঘুমিয়ে গেল তৃধা।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোনটা হাতে নিল সে। একটা মেসেজ সাথে মুখে ঝিলিক দিয়ে উঠল সূর্যরেখা----
জানি তুমি ঘুমাচ্ছো, এও জানি এ তোমার সবচেয়ে সুন্দর রূপ। যখন ঘুমদেবী তোমাকে ছুটি দিবে ঠিক তখন আমার এই খুদে বার্তা তুমি পড়বে। দিনের প্রথম সূর্য কিরণের মতো তোমার জীবনে প্রবেশ করতে চাই। তোমার প্রতিটি দিন রোদের সাথে সাথে আমার ভালবাসা দিয়ে শুরু হবে। আমাকে কী তোমার জীবনের দ্বিতীয় সূর্য হতে দিবে??
তৃধা বুঝতে পারল ছেলেটির তৃধাই মিস সল্যুশন। মেসেজের উত্তরটি কি ছিল তা আর নাই বা বললাম।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চার বছর চুটিয়ে প্রেম করে আমার গল্পের নায়িকা তার নায়ককে বিয়ে করতে যাচ্ছেন।

বিয়েতে সবার দাওয়াত রইল কিন্তু।


লেখক : মীম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়


ঢাকা, ০৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।