৩৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর কৌশল


Published: 2017-01-20 11:19:44 BdST, Updated: 2017-09-20 13:29:46 BdST

৩৭তম লিখিত পরীক্ষা সামনে। চলছে পুরোদমে প্রস্তুতি। তবে একটু কৌশলী হলে আপনি নম্বর বাড়াতে পারেন সহজেই। এতে বিসিএসে চান্স পাওয়া সহজ হবে। লিখিত পরীক্ষায় কিভাবে কৌশলী হওয়া যায় এব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন ৩৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে মেধায় দ্বিতীয় শাহ মো. সজীব।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি : সাধারণ জ্ঞানের অন্যতম স্থান দখল করে আছে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি। আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নানা মাত্রায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এখানে আছে অর্থনৈতিক ইতিহাস, রাজনৈতিক ইতিহাস, সামরিক ও যুদ্ধের ইতিহাস। আছে নানা ধরনের সংগঠন, কূটনৈতিক অবস্থান, ভূরাজনীতি। তাই একজন বিসিএস-প্রত্যাশীকে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের আন্তর্জাতিক বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। যেখানে টীকা আছে ৪০ নম্বর, বিশ্লেষণী ধরনের প্রশ্ন ৪৫ নম্বর এবং সমস্যা সমাধানমূলক প্রশ্ন ১৫ নম্বর। মোট ১০০ নম্বর। সময় ৩ ঘণ্টা। আর এতে তথ্যপূর্ণ লেখা না থাকলে নম্বর তোলা বেশ কঠিন। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ভালো করার জন্য যা করতে পারেন।

অ) বিগত বছরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও টীকাগুলো একবার পড়ে নেবেন। বাকি প্রশ্ন আপাতত পড়ার দরকার নেই।

আ) সমসাময়িক বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে। এ জন্য দৈনিক পত্রিকার আন্তর্জাতিক পাতা খুব ভালো করে পড়বেন। মাসিক সাধারণ জ্ঞানের ম্যাগাজিন থেকেও আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো মাথায় রাখবেন।

ই) আন্তর্জাতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও জেনে যেতে হবে। ৩৪তম বিসিএসে দেখা গেছে ঐতিহাসিক প্রশ্ন বেশি করে করেছে। এই অংশে যা গুরুত্বপূর্ণ—আমেরিকার স্বাধীনতা, মনরো ডকট্রিন, চৌদ্দ দফা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, হিটলারের উত্থান ও জার্মানি, বিশ্বমন্দা ১৯২৯-৩০, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, আমেরিকা-ভিয়েতনাম যুদ্ধ, স্নায়ুযুদ্ধ ইত্যাদি।

ঈ) যদি আপনার হাতে সময় থাকে, তবে ড. তারেক শামসুর রেহমানের নয়া বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বইটি পড়তে পারেন। কাজে লাগবে।

উ) পড়ার সময় আলাদা খাতায় সংক্ষিপ্ত আকারে নোট করতে পারেন, যাতে পরীক্ষার আগে একটু দেখা যায়।

ঊ) বাজার থেকে একটি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি গাইড সংগ্রহ করে নিলেই হবে। আর দরকার নেই।

ঝ) আমেরিকার সাম্প্রতিক নির্বাচন, রোহিঙ্গা সমস্যা, তুরস্ক-রাশিয়া সম্পর্ক, ভারতীয় রুপি নিয়ে বিতর্ক ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতি পড়ে যাবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশে ৬০ নম্বর, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি অংশে ২৫ নম্বর, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি অংশে ১৫ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বর। এর সুবিধা হলো, লিখতে পারলে অনেক ভালো নম্বর তুলতে পারবেন। ভুল লিখলে আবার বিপদও আছে। একটা কথা বলা প্রয়োজন, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষা দেন। স্বাভাবিকভাবেই বাণিজ্য ও মানবিক ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রতিযোগীদের বিজ্ঞান সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখার কথা নয়। কারণ, একাডেমিক জীবনে তাঁরা এটি বেশি পড়ার সুযোগ পাননি। তাই যদি অতিমাত্রায় কঠিন প্রশ্ন করা হয়, তাহলে বাণিজ্য ও মানবিক শাখার প্রতিযোগীদের বিরাট অসুবিধা হবে। তাই বিসিএসে বিজ্ঞান অংশে একটা গড় প্রশ্ন করার চেষ্টা করা হয়। দু-একটা কঠিন প্রশ্ন হয়তো থাকতে পারে; এর বেশি না। একটা কথা মনে রাখবেন, প্রশ্ন করে প্রতিযোগীকে আটকানো পিএসসির লক্ষ্য নয়; পিএসসির লক্ষ্য স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রতিযোগীর মেধা যাচাই। তাই বিজ্ঞান নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা বা ভয়ের কোনো কারণ নেই। সঠিক কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পড়াশোনা এগিয়ে নিলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অংশে অবশ্যই ভালো করবেন। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অংশে ভালো করার জন্য নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

অ) ১০ম থেকে ৩৬তম বিসিএসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নগুলো খুব ভালো করে পড়বেন। আর এটি অবশ্যই বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ের আগেই পড়ে শেষ করে ফেলবেন। কারণ, প্রশ্ন প্রচুর রিপিট হয়।

আ) প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানের উচ্চমাধ্যমিক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইটি একটু পড়ে নেবেন।

ই) নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইটি একবার বাছাই করে পড়বেন। অনেকে এটি প্রিলিতে পড়েছেন।

ঈ) বিগত প্রশ্ন পড়ার জন্য একটি গাইডের প্রয়োজন হবে। এটি ওরাকল বিজ্ঞান হতে পারে।

উ) বিগত প্রশ্ন পড়ার পরে গাইড থেকে অধ্যায় ধরে কিছু প্রশ্ন বাছাই করে পড়বেন, যা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে। সব পড়তে যাবেন না। এত সময় পাবেন না।

ঊ) প্রশ্ন পড়ার সময় টু দ্য পয়েন্টে পড়বেন এবং লেখার সময়ও তাই। কোনো সূচনা, শেষ বা অতিরিক্ত বিষয়ের অবতারণার প্রয়োজন নেই।

ঋ) চিত্র দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে ভালো নম্বর আসবে। তাতে আবার অপ্রাসঙ্গিক চিত্র দিয়ে ভরিয়ে রাখবেন না। আর চিত্র ফ্রি হ্যান্ডে আঁকবেন। স্কেল ধরতে গেলে সব প্রশ্নের উত্তর শেষ করতে পারবেন না।

এ) সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় বিজ্ঞানে। তাই একটু দ্রুত লেখার চেষ্টা করবেন।

ঐ) ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক অংশটি বেশ কঠিন, বিশেষ করে মানবিক ও বাণিজ্যিক শাখার পরীক্ষার্থীদের জন্য। তাই বেশ গুরুত্ব দিন।

ও) পড়ার সময়ই মাথায় পরিকল্পনা করে রাখবেন, কোথায় কোথায় চিত্র দেবেন।

ঔ) বিজ্ঞানটা বেশি করে রিভিশন দেবেন। আর এর জন্য আলাদা করে কোনো নোট করার প্রয়োজন নেই। বই ও গাইডে দাগিয়ে রাখলেই হবে।

এবার রেফারেন্সের উৎস এবং কীভাবে তা খাতায় উপস্থাপন করবেন, তা নিয়ে একটু বলছি।
লেখার মান উন্নত পর্যায়ে নিতে সঠিকভাবে বেশি বেশি রেফারেন্স ব্যবহার করতে হবে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক রেফারেন্সের উৎস।

ক) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৬ (সর্বশেষটি হবে)

খ) সরকারি-বেসরকারি প্রকাশিত প্রতিবেদন (যথা টিআইবি, সিপিডি, আসক, নিসচা ইত্যাদি)

গ) বোর্ডের বইগুলো

ঘ) বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখা মৌলিক বই (যেমন অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর, বাংলাদেশের ইতিহাস ইত্যাদি)

ঙ) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত প্রতিবেদন

চ) সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নাম ও তথ্য
গাইডের নাম ভুলেও রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করবেন না। তাহলে বিপদ আছে। বিভিন্ন বিষয়ের কিছু বিশেষজ্ঞের নাম ও অবদান আয়ত্ত করে রাখবেন, যেন যেকোনো জায়গায় উপস্থাপন করতে পারেন। আন্দাজে রেফারেন্স ও তথ্য দেবেন না। আর রেফারেন্স উপস্থাপন করা খুব সহজ। যেখানে তথ্যটি লিখবেন, তার সঙ্গেই নীল কালি দিয়ে রেফারেন্স উল্লেখ করে দেবেন, যেন সহজেই পরীক্ষকের চোখে পড়ে।

নমুনা বলছি একটি (সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল বই, পৃষ্ঠা নম্বর ২৪)। ইংরেজির বেলায়ও একই। শুধু ভাষাটা ইংরেজি হবে। পৃষ্ঠা নম্বর বা সংবাদপত্রের তারিখ ভুলে গেলে দেওয়ার দরকার নেই। অনুমানে না দেওয়াই ভালো। কারণ, আপনার চেয়ে পরীক্ষক বেশি চালাক ও জ্ঞানী। তবে এখন থেকে যেভাবে বলছি পড়লে রেফারেন্সের অভাব হবে না। পড়ার সময় রেফারেন্স দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে পড়বেন।


লেখক : শাহ মো. সজীব
প্রশাসন ক্যাডার (২য় স্থান)
৩৪তম বিসিএস


ঢাকা, ২০ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।