আন্তর্জাতিক বিষয়ে ৩৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি


Published: 2017-02-10 13:04:24 BdST, Updated: 2017-09-24 12:58:21 BdST

সুজন দেবনাথ : যারা অনেক দিন ধরে International Affairs নিয়ে লিখতে বলেছিলেন, দেরি হবার জন্য তাদের কাছে সরি। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিকঃ

(i). নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য নীতি এবং এর প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্ভাব্য পরিবর্তন। সম্ভাব্য নতুন বিশ্ব বিশ্বব্যবস্থা (New World Order): মিস্টার ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি, মাইগ্রেশান নীতি, TPP থেকে সরে যাওয়া, ন্যাটো সম্পর্কে মনোভাব, নতুন মার্কিন প্রশাসনের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক ইত্যাদি, Rise of Populism (লোকপ্রিয়তা নীতি বা লোকরঞ্জনবাদ) ও লিবারেল ডেমোক্রেসির ভবিষ্যৎ

(ii) রোহিঙ্গা সমস্যা ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রেক্ষাপট,

(iii) ব্রেক্সিট ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ/মাইগ্রেশান

(iv) Sustainable Development Goal (SDG) এবং বাংলাদেশ

(vi) বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

(viii) সন্ত্রাসবাদ – বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে (Islamic State)
.
** (i). জাতিসংঘের পুনর্গঠন (reform), (ii) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি (সংবিধানের অনুচ্ছেদ-২৫) এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অর্জন (iii) সার্কের সাফল্য ও ব্যর্থতা, (iv). ন্যাটোর ভবিষ্যৎ, (v). শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ (vi) বিশ্ব পরিমণ্ডলে নতুন রাশিয়ার উত্থান
.
* (i). Globalization (WTO, World Bank, IMF) ও বাংলাদেশ, (ii) তিনটা দেশের পররাষ্ট্র নীতি (আমেরিকা, ভারত ও চীন), (iii) তুরস্কের সংকট, (iv) বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে BIMSTEC, Commonwealth, NAM, OIC
.
আন্তর্জাতিক বিষয়ের প্রস্তুতিতে বাজারের যে কোন একটা গাইড আর ইন্টারনেটই যথেষ্ট। কোন টপিকের মূল বিষয়টা (background) বুঝে নিন আর ঐ টপিকের Data ও information দাগ দিয়ে বা লিখে রাখুন। বাংলা/ইংরেজী পত্রিকার ওয়েবসাইটেও Data ও information পাবেন। প্রতিটা বিষয়ে ৭/৮ টা ডেটা (world Bank report, UN report, যে কোন সংস্থার রিপোর্ট), ৪/৫ টা কোটেশান (লেখকের নামসহ)লিখে ফেলুন। এগুলো মিলিয়েই সুন্দর উত্তর হয়ে যাবে।
.
২০১৬ নিয়ে দুটি কথা :
২০১৬ সাল ছিল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উদার গণতন্ত্র বা লিবারেল ডেমোক্রেসির জন্য সব ক্ষেত্রে পরাজয়ের বছর। আর চরম পন্থার বিজয়ের বছর। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠী, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এসবের মাধ্যমে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে আমেরিকা ও পশ্চিম-ইউরোপের নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটরা। এরা মুক্ত বাণিজ্য, গ্লোবালাইজেশান আর গণতন্ত্রের কথা বলে। ইউরোপের ক্ষেত্রে এরা রাশিয়া-বিরোধী আর ইউরোপীয় ইউনিয়নকে শক্তিশালী করার পক্ষে।

কিন্তু ২০১৬ সাথে এই লিবারেল ডেমোক্রেটদের কোন হিসাব মিলে নি। সবগুলো বড় জায়গায় তারা চরমপন্থীদের কাছে হেরে গেছে। ব্রেক্সিট পাশ হয়েছে, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবে। তার মানে দুর্বল হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আর শক্তিশালী হচ্ছে রাশিয়া। সিরিয়া, ইউক্রেনসহ বেশ কিছু জায়গায় রাশিয়া যা চেয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাই হয়েছে। এটা আমেরিকা আর পশ্চিম-ইউরোপের নেতৃত্বে যে বর্তমান বিশ্ব-ব্যবস্থা সেটির জন্য একটি পরাজয়। আবার ইউরোপ ও এশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ তুরস্কও ইউরোপীয় ইউনিয়নের থেকে মুখ সরিয়ে রাশিয়ার সাথে সখ্যতা বাড়াচ্ছে।

বারাক ওবামার অনেক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মিস্টার ট্রাম্প জয়ী হলেন। তিনি বাণিজ্য চুক্তি টিপিপি বাতিল করলেন, মাইগ্রেশনের বিপরীতে নীতি নেয়া শুরু করেছেন। তিনি চীনের ঘোর বিরোধী অন্যদিকে রাশিয়া নাকি তার বন্ধু। এসব কিছু আমাদের চেনা বিশ্ব-ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইংগিত।

এই পরিবর্তন পৃথিবীতে এখন যেভাবে হচ্ছে সেটাও আশ্চর্যরকম। ২য় বিশ্বযুদ্ধ বা ১ম বিশ্বযুদ্ধের আগে পৃথিবীর সমস্যা ছিলো উগ্র জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদকে কাজে লাগিয়ে হিটলার, মুসোলিনী এরা জনপ্রিয় হয়েছিলেন। এখনকার পরিবর্তনও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই হচ্ছে। কিন্তু সেটি আগের মত উগ্র জাতীয়তাবাদ দিয়ে নয়।

এখনকার পলিসি হলো – মানুষ যা শুনতে ভালোবাসে তাই বলো। আমেরিকার নেতারা বলছে – আমেরিকা নাকি এখন আর গ্রেট নাই, আবার আমেরিকাকে গ্রেট বানাতে হবে। সেখানের অনেকেই এইকথা বিশ্বাস করছে, আর ফলে নেতারা জনপ্রিয় হচ্ছে। তারা নাকি বিশ্বায়ন বন্ধ করে দিবে, মুক্ত বাণিজ্য আর চলবে না, মাইগ্রেশানও হবে না। তারা ধর্মের নাম মুখে বলছে না, কিন্তু স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে কিছু ধর্মের মানুষকে উদ্দেশ্য করেই তাদের নীতি।

ইউরোপের দেশে দেশে কিছু নেতা বলছে – মাইগ্রেট করে যারা আসছে, তারা আমাদের হত্যা করছে, তারা সন্ত্রাসী, এদেরকে দূর করো। এসব কথা অনেক মানুষ বিশ্বাস করছে। ঐ কট্টরপন্থী নেতারা জনপ্রিয় হচ্ছে। আবার অনেক দেশের নেতারা সরাসরি ধর্মের নাম করে নানান কথা বলছে, তারাও জনপ্রিয় হছে। সবাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে। জনপ্রিয়তা অর্জনের এই নতুন উপায়কে পণ্ডিতরা বলছে Populism বা লোকপ্রিয়তার নীতি বা লোকরঞ্জনবাদ। এই Populism এর উপর ভিত্তি করে এই মুহূর্তে পৃথিবী বদলাচ্ছে।
এই সময়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষণে এইটুকু মাথায় রাখতে হবে।
.
এবার বিসিএস আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী দেখিঃ
Short Conceptual Note: মানে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বা টিকা। ১২ টা থেকে ১০ টা দিতে হবেঃ ১০x৪=৪০ নম্বর। এর জন্য তিনটা বিষয়ঃ (১)সিলেবাস (২)আগের ৫/৬ বছরের প্রশ্ন, (৩)সাম্প্রতিক ইস্যু। সিলেবাসের টপিকগুলোর সংজ্ঞা দেখে নিন। আগের কয়েক বছরের টিকা আর কিছু সাম্প্রতিক ইস্যু দেখুন। এই তিন বিষয়ের উপর নিজে একটা লিস্ট করে সেগুলো গাইড বা ইন্টারনেটে দেখে ফেলুন।সিলেবাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক – state, sovereignty, non-state actor, power, national power, balance of power, geopolitics, realism, liberalism/neo-liberalism, foreign policy, imperialism, globalization, neo-colonialism, new world order, foreign policy, diplomatic functions and immunities. এগুলোর মানে কি - একটু গল্পের মত বুঝে নিন, যাতে যাই আসুক – লিখা যায়। আবার বলছি - এই অংশটার জন্য সিলেবাসের সংজ্ঞা ভালো করে দেখুন।
.
Analytical Question: 3 out of 4 questions 3 x 15 =45, আন্তর্জাতিকে সব সময়ই সাম্প্রতিক বিষয় থেকে কয়েকটা প্রশ্ন দেয়। তাই আগের প্রশ্ন, সাম্প্রতিক আর সিলেবাস মিলিয়ে নিজেই ঠিক করতে পারবেন কোনগুলো পড়তে হবে। আমি উপরে কিছু টপিক দিয়েছি।
.
Problem Solving: ১৫ নম্বর। এখানে সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত বিষয় নিয়েই সমস্যা মূলক ‘সৃজনশীল টাইপ প্রশ্ন’ প্রশ্ন থাকে। এ অংশের জন্য পত্রিকার আন্তর্জাতিক বিষয়ক কলামগুলো পড়ুন। ৩৬-তম এ এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে প্রশ্ন ছিলো। এখানে নাম্বার ১৫, তাই প্রশ্নে কি কি জানতে চেয়েছে সেগুলো বিস্তারিত লিখতে হবে।
.
নিরন্তর শুভকামনা এবং অগ্রজের অগ্রিম অভিনন্দন



লেখক : সুজন দেবনাথ (অব্যয় অনিন্দ্য)
First Secretary, বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্স


ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।