বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গবেষণার প্রাথমিক প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে


Published: 2017-06-03 11:55:19 BdST, Updated: 2017-09-22 17:32:13 BdST

রাশেদ-আল-মাহফুজ : অনেকেরই ইচ্ছে থাকে গবেষণা করবে, গবেষণাধর্মী পড়াশোনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিও নেয় সেই স্কুল কলেজ থেকেই। গবেষণা করার ইচ্ছে মনে পোষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও হয় অনেকে। কিন্তু কিভাবে গবেষণা শুরু করবে, কোন বিষয়ের উপর করবে এগুলো বুঝতে বুঝতেই একদিন শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যায়।

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই গবেষণাধর্মী চাকরির দারুণ সম্ভাবনা আছে। তাই শিক্ষাজীবনে একটু দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করলেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে মানসম্মত গবেষণাধর্মী চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। গবেষণাধর্মী চাকরির বড় সুবিধা হচ্ছে এর ক্ষেত্রটা বিশ্বব্যাপী এবং সাধারণত প্রতিযোগী কম থাকে। তাছাড়া গবেষণায় অভিজ্ঞতা থাকলে অনার্স মাস্টার্স শেষে বিদেশে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

একজন শিক্ষার্থী কিভাবে গবেষণা শুরু করতে পারে বা গবেষণা সম্পর্কে কিভাবে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে সেটাই এই লেখার উদ্দেশ্য।

আমেরিকায় এসে দেখলাম বিশ্ববিদ্যালয়তো বটেই হাই স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীও গবেষণা করার জন্য আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করে। বিশেষ করে সামার সেশনে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন গবেষণাগারে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করে। এখান থেকেই তাদের গবেষণার হাতেখড়ি হয়ে যায়।

তাহলে বোঝা যাচ্ছে যে, গবেষণা করার জন্য ছাত্রজীবন শেষে না বরং কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকেই সম্পৃক্ত হতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দেশের বিবেচনায় কিভাবে গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া যায়? এর উত্তর খুব সোজা। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সকল শিক্ষকই কম বেশি গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত। কোন শিক্ষক কোন বিষয়ের উপর গবেষণা করেন তা প্রথমেই জেনে নিতে হবে। এসকল তথ্য ওয়েবসাইট থেকে, সিনিয়র ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে এমনকি শিক্ষকের সাথে সরাসরি কথা বলেও তার গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এভাবে তথ্য সংগ্রহ করলে নিজ পরিমণ্ডলে যেসব বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে তার একটা মোটামুটি ধারণা পাওয়া যাবে।

এমনও হতে পারে কিছু কিছু গবেষণার ক্ষেত্র ও ধরণ সম্পর্কে প্রথম প্রথম কিছু নাও বোঝা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনলাইনে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলে বা সরাসরি ওই গবেষকের সঙ্গে কথা বলে গবেষণার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাধারণ ধারণা লাভ করা যেতে পারে।

ধরলাম এভাবে খোঁজ খবর নিয়ে পাঁচ ধরনের গবেষণা সম্পর্কে ধারণা পেলেন। এখন চিন্তা করুন, একটু ভাবুন- গবেষণার কোন ক্ষেত্রটির প্রতি আপনার বেশি আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে? যেটার প্রতি বেশি আগ্রহ পাবেন ঐ গবেষণাটা যে শিক্ষক/গবেষক করছেন তার কাছে আপনার আগ্রহের কথা বলুন। প্রয়োজনে ওই গবেষণাগারে ভলান্টিয়ার সার্ভিস দিন, এতে ল্যাবের কাজকর্ম সম্পর্কে ধারণা লাভ করবেন। প্রথম থেকেই আপনি গবেষণা করে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে ফেলবেন ব্যাপারটা এমন নয়, কিন্তু গবেষণার প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন এটাই অনেক কিছু। অল্প অল্প করে অনলাইনে, ল্যাবের গবেষকদের কাছ থেকে উক্ত বিষয়ের উপর জানতে থাকুন।

উক্ত ল্যাবের গবেষকদের প্রকাশিত আর্টিক্যালগুলো সংগ্রহ করে গবেষণাকর্মটি বোঝার চেষ্টা করুন। এটাই হবে আপনার গবেষণা করার প্রাথমিক প্রস্তুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পর্যায়ের শেষের দিকে গবেষণাধর্মী প্রজেক্ট নেওয়ার সুযোগ থাকে। তখন এতদিন যে বিষয়ের উপর জানলেন তার উপর ভিত্তি করে একটা বেসিক গবেষণা শুরু করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ঠিক কোন টপিকসের উপর কাজ করবেন তা আপনার গবেষণা সুপারভাইজারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে নিতে পারবেন। যেহেতু ইতোমধ্যে আপনার আগ্রহ ও সামর্থ্য সম্পর্কে আপনার সুপারভাইজারের একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাবে, তাই যথাযত টপিকস নির্বাচন করাটাও তার জন্য সহজ হবে।
তবে মনে রাখবেন, ইন্টারনেটের যুগে আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগের চাইতে আপনার আগ্রহ এক্ষেত্রে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে।

 

লেখক : রাশেদ-আল- মাহফুজ
রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট, হিউস্টন ইউনিভার্সিটি, আমেরিকা।

এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, সিএসই বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

ঢাকা, ০৩ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।