বুয়েটে চান্স পেতে হলে যা করতে হবে


Published: 2017-08-13 11:53:27 BdST, Updated: 2017-09-22 17:48:06 BdST

 

মশিউর রহমান : স্বপ্নের ক্যাম্পাস বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মেধাবীদের প্রথম চয়েজ বুয়েট। এখানে জীবন পাখা মেলে ধরে। বুয়েটে চান্স মানেই তোমার ক্যারিয়ার ফিক্সড হয়ে যাওয়া। তাই এখানে চান্স পেতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

একটি কথা মনে রাখতে হবে— ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার পরের কয়েকটি মাস। এ সময়ের সঠিক প্রস্তুতি আর দিকনির্দেশনাই পাল্টে দিতে পারে তোমার জীবন।

আরেকটি কথা মনে রাখবে না বুঝে অযথা দিন-রাত প্রচুর পড়াশোনা করে লাভ নেই। টেকনিক খাটিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় অনেকের খারাপ করার প্রধান কারণ বেশি দুশ্চিন্তা বা আতংকে থাকা। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন যা পড়েছে তার বেশিরভাগই পরীক্ষার হলে গিয়ে ভুলে যায়। এছাড়া কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি সময় নষ্ট করে ফেলে। ফলে সহজ প্রশ্নগুলো সমাধান করে আসতে পারে না। চল জেনে নেই কিভাবে তুমি নিজেকে প্রস্তুত করবে :

গণিত : মনে রাখা ভালো গণিতের বেশিরভাগ প্রশ্নই টেক্সট বই থেকে সরাসরি তুলে দেওয়া হয়। আবার এমনও দেখা যায়, কিছু প্রশ্ন একটু ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং মূল বই ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে।

ভালোভাবে বুঝে পড়লে যে কারও বই পড়লেই চলবে। বলবিদ্যার অংকগুলো বুঝে করতে হবে, পাশাপাশি ক্যালকুলাসের সূত্রগুলো মনে রাখতে হবে। সার্বিক কথা হল গণিতে ভালো করার জন্য বেশি বেশি অনুশীলনের বিকল্প নেই।

পদার্থবিজ্ঞান : আমি মনে করি পদার্থবিজ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য অন্তত দুজন লেখকের বইয়ের সব গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা উচিত। বাজারে খোঁজ নিলে অনেক লেখকের বই পাওয়া যাবে। কোন লেখকের বই পড়বে সেটা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। পদার্থবিজ্ঞানে টেকনিক্যাল প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়া উচিৎ।

পদার্থবিজ্ঞানের প্রথমপত্রে গতিবিদ্যাসহ প্রতিটি অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ। আর দ্বিতীয়পত্রে চুম্বক, তড়িত্শক্তি, আলো এসব অধ্যায় থেকে প্রায় প্রতিবছরই রচনামূলক প্রশ্ন থাকে। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের খুঁটিনাটি বিষয় মনোযোগ সহকারে এবং অবশ্যই বুঝে পড়তে হবে। থিওরিগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।

রসায়ন : মনে রাখবে রসায়নের প্রশ্ন গণিত বা পদার্থবিজ্ঞানের চেয়ে সহজ হয়। জৈব রসায়ন ভালো করে রপ্ত করতে হবে। রসায়ন যত বেশি চর্চা করবে তত ভালো করা সম্ভব। বিক্রিয়াগুলো বারবার লিখে চর্চা করতে হবে এবং ভালো করে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় সব বিক্রিয়া, সংকেত আলাদা খাতায় লিখে নোট করে রাখলে। যাতে পরীক্ষার আগে চোখ বুলিয়ে নেয়া যায়।

মনে রাখা ভালো, বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় রসায়ন দ্বিতীয়পত্র থেকে রচনামূলক প্রশ্ন তেমন একটা আসে না। তবে দ্বিতীয়পত্রে প্রচুর বিক্রিয়া, পরীক্ষাগার প্রস্তুতি, শিল্পোৎপাদন, সংকেত, রূপান্তর পড়তে হবে। লক্ষ্য করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রশ্নই করা হয় প্রথম পত্রের প্রথম দিককার অধ্যায়গুলো থেকে। তাই এসব অধ্যায় গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।

এছাড়া নিয়মিত উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যবইগুলো পড়ার পাশাপাশি বিগত বছরের বুয়েটের প্রশ্নগুলো সমাধান করবে। এতে যেমন পরীক্ষার প্রশ্ন সম্বন্ধে ধারণা তৈরি হয়, তেমনি আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এর পাশাপাশি গ্রুপ স্টাডিও কাজে আসে।

আরেকটি কথা মনে রাখবে সাজেশনভিত্তিক পড়াশোনা করা যাবে না। যারা মনে করছ, শেষ মুহূর্তে সাজেশন ধরে প্রস্তুতি নেবে, তাদের বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াটাই বৃথা হবে। অনেকেই বিভিন্ন গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতি নেয়। এটা আদতে কোনো সুফলই বয়ে আনবে বলে মনে হয় না। মাথায় রাখতে হবে মূল বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

পরীক্ষা কেন্দ্রে যা করতে হবে :
শুধু ভালো প্রিপারেশন নিলেই চলবে না চূড়ান্ত সাফল্য পেতে হলে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিজের সামর্থ্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পেয়ে হতাশ হয়ে যেয়ো না। প্রশ্ন যেমনই হোক মাথা ঠাণ্ডা রেখে চিন্তাভাবনা করে প্রশ্নের উত্তর করতে হবে।

মনে রাখতে হবে যে প্রশ্ন তোমার জন্য কঠিন সেটা সবার জন্যই কঠিন। তাই ঘাবড়ানো যাবে না। নিজের ওপর আস্থা রেখে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রশ্নের উত্তর করতে হবে।

বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি রচনামূলক প্রশ্নের জন্য গড়ে প্রায় তিন মিনিট সময় পাওয়া যায়। অতি অল্প সময়ের মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর করা প্রায় অসম্ভব। তাই যেসব প্রশ্নের সমাধান জানা আছে অথবা সমাধান করতে পারা যাবে বলে মনে হয় সেগুলোর আগে উত্তর করা উচিত।

মনে রাখবে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ ভাগ উত্তর করে আসা অনেকটা কঠিন। ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৪০-৫০ নম্বরের উত্তর না করেও বুয়েটে চান্স পাওয়া সম্ভব। তাই সব প্রশ্নের উত্তর করে আসব- এ টার্গেট নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া এক ধরনের বোকামি।

তাই টার্গেট থাকবে তুমি যা পার তা সঠিকভাবে দিয়ে আসা। ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত এ তিনটি বিষয়ের ওপরই প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে পদার্থ আর গণিতের প্রশ্নগুলো তুলনামূলক কঠিন হয়। তাই সেটি মাথায় রেখেই পরীক্ষা হলে বসতে হবে। মাথা গরম না করে ঠাণ্ডা মাথায় পরীক্ষা দাও, তোমার চান্স কেউ ঠেকাতে পারবে না।

বুয়েটের ক্যাম্পাসে তোমাকে স্বাগতম। শুভ কামনা রইলো...


লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


ঢাকা, ১৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।