যে কারণে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এ ক্যারিয়ার


Published: 2016-11-13 21:37:48 BdST, Updated: 2017-09-22 23:14:36 BdST


শাহেদুর রহমান রনি: বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষেরই লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় তারা আজও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে শুধুমাত্র ট্যানারিকেই বুঝে। যে কারণে একজন শিক্ষার্থী লেদার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তার ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে অনেক দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগেন। এই একই কারণে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের বিভাগ পছন্দের তালিকার নিচের দিকে থাকে এই সাবজেক্টটি। এই সাবজেক্টটি কি, এই সাবজেক্টে কি পড়ানো হয়, ভবিষ্যতে কি করতে পারবে, চাকরির বাজার কেমন সে সম্পর্কে লিখছি।

১. লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং কি??
লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যকে সংশ্লেষণ,উৎপাদন এবং পরিশুদ্ধ করণকে বুঝায়।যার মাধ্যমে পরবর্তীতে বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস যেমন- ফুটওয়্যার,ব্যাগ,খেলার সামগ্রী, জুতা,মানিব্যাগ,জ্যাকেট সহ বিভিন্ন বিলাসবহুল পণ্য তৈরি করা হয়।

২. লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এর শাখা কি??

ম্যানুফেকচারিং,ফুটওয়্যার,লেদার প্রোডাক্টস এই ৩ টি শাখা হচ্ছে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান শাখা।

৩. লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এ কি পড়ানো হয়?
লেদার সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে মূলত পড়ানো হয় কাঁচা চামড়া থেকে লেদার তৈরির কলাকৌশল,বিভিন্ন ব্যবহার উপযোগী লেদার উৎপাদন এবং বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্যের ডিজাইন ও নির্মাণকৌশল।এর পাশাপাশি চার বছরের কোর্সে অন্তর্ভুক্ত থাকে বিভিন্ন ভৌত ও ফলিত বিজ্ঞান কোর্স।সঙ্গে মৌলিক প্রকৌশলের বিভিন্ন কোর্স যেমন- ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার এন্ড ফান্ডামেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি।

৪. বি.এসসি পাশ করার পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কেমন?
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে লেদারের পাশাপাশি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং,এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং,পলিমার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজাইনিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে একজন লেদার ইঞ্জিনিয়ারের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

৫. সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ আছে কি?
আছে।বিসিএস,নির্বাচন কমিশন,এনএসআই, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো,লেদার রিসার্স ইন্সটিটিউট,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এলএসবিপিসি,অর্থ মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ইত্যাদি ক্ষেত্রে চাকরির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

৬. বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ আছে কি?
ব্যাপক সুযোগ আছে।বাটা,এপেক্স,লোট্টো, ডাইসম্যান, টিম্বারল্যান্ড, ডিক্যাথলন, কারি, এডিডাস, নাইকি, পুমা প্রভৃতি নামকরা বিদেশী বায়িং হাউজে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে।এছাড়াও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন লেদার, ফুটওয়্যার ও লেদার প্রোডাক্টস প্রতিষ্ঠানে একজন ইঞ্জিনিয়ার বা ফুটওয়্যার ডিজাইনার হিসেবে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে।

৭. একজন লেদার ইঞ্জিনিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কোথায় কোথায় কাজ করতে পারবে??
রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাক্ট ডিজাইনিং, মার্চেন্টাজিং, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি স্হানে কাজ করতে পারবে।

৮.বাংলাদেশের কোথায় কোথায় এই সাবজেক্ট পড়ানো হয়??

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(কুয়েট) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি(আইলেট) শুধুমাত্র এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সাবজেক্ট পড়ানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং(৪০ জন),লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং(৪০ জন) ও ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং(৪০ জন) করে আলাদা ভাবে পড়ানো হলেও কুয়েটে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে একই সাথে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং,লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ানো হয়।সেক্ষেত্রে কুয়েট থেকে বি.এসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা চাইলে ৩ টি সেক্টরের যেকোন একটি সেক্টরে কাজ করতে পারবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ ধরে রেখেছে চামড়াশিল্প।আয়ের দিক দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবস্থান চতুর্থ।

বর্তমানে চীন,কোরিয়া সহ বিভিন্ন উন্নত দেশগুলো তাদের লেদার ও ফুটওয়্যার বিজনেসগুলোকে স্হানান্তর করছে বাংলাদেশে।বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত চামড়ার গুণগতমান ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর বেশ কদর রয়েছে।এজন্য চামড়া ও চামড়াশিল্পজাত পণ্য উৎপাদনকারী বহু প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসার রুটিন সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে।বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ছোট জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াজাত চামড়া ও জুতার পাশাপাশি নানা ধরনের চামড়াজাত পণ্য তৈরি হচ্ছে।এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে এবং ক্রমাগত দেশের অর্থনৈতিক অবস্হার উন্নতি হচ্ছে।

শ্রমবাজার তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং কাঁচামাল প্রাচুর্যতার কারণেই বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের শক্তিশালী ক্ষেত্র হয়ে দাঁডিয়েছে এই সেক্টরটি।বাংলাদেশে এই সেক্টরে যে পরিমাণ দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন,বর্তমানে রয়েছে তার তুলনায় অনেক কম। তাই সামনের দিনগুলোতে লেদার ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য এক অপার সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে।তাই লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টে পড়ালেখার মাধ্যমে তুমিও হয়ে উঠতে পারো এ সেক্টরের একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এবং গড়তে পারো তোমার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার।

লেখক: Shahedur Rahman Rony
(LE,2k15,kUET)

 

ঢাকা, ১৩, নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।