নাসায় বাংলাদেশী ছাত্রীর সফলতার গল্প


Published: 2017-04-28 13:56:08 BdST, Updated: 2017-09-22 23:00:40 BdST

তানজিয়া আক্তার : ঢাকার মোহাম্মদপুরের মেয়ে আনিকা নূর। তার সাফল্যের গল্পটা কষ্টের, পরিশ্রমের। তার হাত ধরেই মহাকাশে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের পতাকা। রকেটে করে তিনি ওই পতাকা পাঠিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায়।

মাত্র পাঁচ বছর আগে অভিবাসী হয়ে সপরিবারে তিনি পাড়ি জমান আমেরিকায়। পরিশ্রম আর মেধার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে আনিকা পৌঁছে গেছেন নাসা পর্যন্ত।

জানা গেছে, আনিকা যখন আমেরিকায় গিয়েছিলেন তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর। সেখানে গিয়ে ভার্সিটির অ্যাডমিশন নিলেন। সঙ্গে ফুলটাইম জব। এরই মধ্যে বিয়ে ঠিক হলো, চলে যেতে হলো নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডায়।
স্কলারশিপ না থাকায় লোন নিলেন হাই ইন্টারেস্ট রেটে।
কারণ, কমপক্ষে একবছর না হলে সরকার অর্থ সহযোগিতা করে না।

এদিকে আনিকার স্বামীর চাকরি হলো অন্য স্টেটে। এবার ফ্লোরিডা থেকে কলোরাডো। মেয়েটা তখন ভয়ংকর সমস্যায়, ফান্ড নেই কিন্তু অনেক টাকা লোন হয়ে গেছে। দেখলেন স্কলারশিপ ম্যানেজ করতে হবে, না হলে পড়াশোনা বন্ধ। কিন্তু আমেরিকার কোন সার্টিফিকেট তার নেই। কি কবরবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

অবশেষে ভলান্টারি কাজ করা শুরু করলেন। আমেরিকায় যাদের বৈধভাবে বসবাসের কাগজপত্র নেই, তাদের অংক আর ইংরেজি শেখানো শুরু করলেন। এই কাজ দেখিয়ে আমেরিকার ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন থেকে ১০ হাজার ডলার স্কলারশিপ পেলেন।

হঠাৎ একদিন ভার্সিটির নিউজ বোর্ডে নাসার একটি বিজ্ঞপ্তিতে চোখ পড়ল তার। এমন একটি প্রজেক্ট বানাতে হবে যেটা মহাকাশে যাবে। এই কাজটাতে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন আনিকা। একটা টিম গঠন করলেন। প্রোগ্রামিং শিখলেন নিজে নিজে।

নাসার সামপ্রতিক গবেষণাগুলো দেখা শুরু করলেন আনিকা। দেখলেন ওরা ‘ফাঙ্গি’ (ফাঙ্গাস) পাঠিয়েছে মহাকাশে, যেটার ৬০ ভাগ সারভাইভ করেছে। আনিকা জানান, ফাঙ্গি নিজের খাবার নিজে বানাতে পারে না। আমরা ভাবলাম, ফটোসিনথেসিস করে, এমন কিছু নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করি। নাসাতে এই প্রস্তাব দিলাম। তারা এটা গ্রহণ করে বড় একটা ফান্ড দিলো।

কলেজ থেকে ল্যাবরেটরিতে কাজ করার অনুমতি মিললো, যেখানে প্রফেসররা ছাড়া আর কেউ যায় না। কিন্তু সেখানে আনিকাদের চারজন গিয়ে কাজ করার অনুমতি পেলেন।

আইক্যাব খুবই প্রতিযোগিতামূলক একটা ওয়ার্কশপ। ভবিষ্যতে মহাকাশে কিছু করার জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এখানে। পুরো আমেরিকা থেকে ৬৮ জনকে নিয়েছে আইক্যাব ওয়ার্কশপে। সেখানে ফ্যাকাল্টি আছে, স্টুডেন্ট আছে, ইঞ্জিনিয়াররা আছে। তবে স্টুডেন্ট হিসেবে চান্স পাওয়া খুব কঠিন। টিমের চারজন থেকে আনিকা একাই চান্স পান সেখানে। নাসার ফ্যাকাল্টিতে রাখা হয় তাদের। তাদের সব কাজ দেখায়। রেঞ্জ কন্ট্রোল থেকে মহাকাশ যান পাঠানো পর্যন্ত। সেখানে নাসার বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের প্রেজেন্টেশন ছিল।

উৎক্ষেপণ করা রকেট আবার ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানকার সব ডাটা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের দেয়া হয়। আনন্দের ব্যাপার হলো, আনিকার দল গবেষণা করে যা যা তৈরি করেছিলেন মহাকাশে তার সবগুলোই কাজ করেছে।

এরই মাঝে আনিকা মজার একটি কাজ করেছেন। কর্মশালায় কয়েকজনকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি... জাতীয় সঙ্গীত শুনিয়ে দিয়েছেন।



ঢাকা, ২৮ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।