ঢাবির গবেষকদের সাফল্য : ৫ মিনিটে তরমুজে বিষাক্ততা জানা যাবে


Published: 2017-05-09 11:43:35 BdST, Updated: 2017-09-21 12:52:32 BdST

ঢাবি লাইভ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল তরমুজের বিষাক্ত রং শনাক্তে সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের গবেষক দল এ তথ্য জানিয়েছেন। মাত্র পাঁচ মিনিটে কোনো ধরনের রাসায়নিকের ব্যবহার ছাড়াই তরমুজে ক্ষতিকর রং আছে কিনা তা জানা যাবে।

রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নীলুফার নাহারের তত্ত্বাবধানে দুই তরুণ গবেষক তানহাউল ইসলাম এবং আহসান হাবীব খন্দকার ওই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। গবেষণা কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং লেকচারার মো. কামরুল হাসাান।

প্রফেসর ড. নীলুফার নাহার বলেন, তরমুজে ক্ষতিকর রং মেশানো হচ্ছে এবং তা খেয়ে অনেকে মারা গেছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা গবেষণা শুরু করি। তরমুজের রঙের সঙ্গে ‘রেড-৩’ এবং ‘রেড-৪০’ রঙের মিল রয়েছে। আমরা তরমুজের রসের সঙ্গে এ রঙ মিলিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চালাতে থাকি। গবেষণার একপর্যায়ে দেখা যায়, ‘রেড-৩’ এবং ‘রেড-৪০’ পানিতে দ্রবণীয় এবং তরমুজের রং (লাইকোপিন) পানিতে দ্রবণীয় নয়। তরমুজের আসল রস স্যান্ট্রিফিউজ মেশিনের (প্রতি মিনিটে ৪ হাজার বার ঘোরে) মাধ্যমে ঘুরাতে থাকলে রংটা নিচে চলে যায় এবং ওপরে সাদা পানি থাকে। কিন্তু যখন ওই দুটি রং মেশানো হয়, তখন তরমুজের রং নিচে গেলেও ওপরের পানিটা রঙিন হয়ে যায়। আর তখনই প্রমাণ হয় এতে ক্ষতিকর রং রয়েছে। এ গবেষণা অত্যন্ত সহজ ও সুলভমূল্যে করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, বাজারে যেসব তরমুজ পাওয়া যায়, তাতে ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা জানতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে পঞ্চাশেরও অধিক তরমুজ আনা হয়। সেসব তরমুজে আমরা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষতিকর রঙের অস্তিত্ব পাইনি।

তিনি জানান, নাটোর থেকে যে তরমুজগুলো আনা হয়েছিল তাতে ইঞ্জেকশন দিয়ে রং ঢোকানের চেষ্টা করা হয়। তখন সেই রং বেড়িয়ে আসছিল। ফলে তরমুজে রং মেশানোর ঢালাওভাবে যে অভিযোগ তার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

 

ঢাকা, ০৯ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।