শাবি ছাত্রের বিসিএস জয়ের গল্প : পেয়ারা-পাউরুটিতে দিন পার


Published: 2017-05-15 12:09:17 BdST, Updated: 2017-09-24 12:44:24 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : সকালে বাদুড়ে খাওয়া পেয়ারায় নাস্তাটা সেরে নিতেন। কোনদিন সেটা না থাকলে কাঁচা পেঁপে খেয়ে নাস্তাটা হত। আর সেটা না হলে আধবেলা না খেয়েই চলতে হত। এভাবে খেয়ে না খেয়ে মেধা আর পরিশ্রমের গুণে সফলতা দেখিয়েছেন কুড়িগ্রামের আবু সায়েম। মা কাঁথা সেলাই করতে করতে আঙ্গুলগুলো ছিদ্র হয়ে জালির মত হয়ে গেছে। বাবা অন্যের জমিতে কাজ করে কোনমতে সংসার চালিয়েছে। অভাবের সংসারে থেকে স্বপ্ন জয়ের মিশনটা তাই সহজ ছিল না সায়েমের।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য ওই ছাত্রটি এখন বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। ৩৫তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সমাজকল্যাণে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন তিনি।

জানা গেল, আবু সায়েমের বাবা অন্যের জমিতে কাজ করতেন। সে আয়ে তিনবেলা ভাত জুটত না। বাড়তি আয়ের জন্য মা কাঁথা সেলাই করতেন। তারপর সে কাঁথা বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতেন। কত দিন কত রাত সায়েম যে না খেয়ে কাটিয়েছেন, সে হিসাব নিজেও জানেন না।

স্মৃতিচারণে সায়েমের ভাষ্য, আম্মা খুব ভোরে উঠে অন্য মানুষের পেয়ারাগাছের তলা থেকে বাদুড়ে খাওয়া পেয়ারা কুড়িয়ে আনতেন। ওই পেয়ারা ছিল আমাদের সকালের নাশতা।

তাদের ঘরের সামনেই ছিল পেঁপেগাছ। ভাতের জোগাড় না হলে কাঁচা-পাকা পেঁপে খেয়েই থাকতে হতো। চাল না থাকায় একবার নাকি তার আব্বা খেত থেকে কলাই তুলে আনেন। সেই কলাই ভাজা খেয়েই শুরু হয় তার পেটজ্বলা। অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে ভাগ্যগুণে সে যাত্রায় বেঁচে যান সায়েম।

এভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে, অসুস্থতায় কাটত দিনগুলো। তবু পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন, ছাড়েননি সায়েম। মাধ্যমিকের ভালো ফলের ধারা ধরে রাখলেন উচ্চমাধ্যমিকেও। এইচএসসি পরীক্ষার পর গ্রামের একটি কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়েছেন কিছুদিন।

ক্লাস করিয়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা পান। সেই টাকাতেই ভর্তি পরীক্ষা দেন। ভর্তি হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। টিউশনি করিয়ে চলত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আর বেঁচে থাকার লড়াই। সে লড়াইয়ে জয়ী হলেন সায়েম। তবে জয়ী হওয়ার আগের দিনগুলো ছিল বেশ কষ্টের। বিশ্ববিদ্যালয় লাইফে সকালের নাস্তা করতেন না সায়েম। দুপুরে পাউরুটি খেয়েই পার করে দিতেন দিন। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

তবে বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় যাওয়ার মতো ভালো কোনো পোশাক ছিল না। সেসময় এক বন্ধু পাশে এসে দাঁড়ায়। তার পোশাকেই পরীক্ষা দিয়েছেন।

মা অন্যের কাঁথা সেলাই করে দিতেন। প্রতি কাঁথা হিসেবে মজুরি পেতেন ৭০ থেকে ১০০ টাকা। মায়ের ১০টি আঙুলে জালির মতো অজস্র ছিদ্র। মায়ের কষ্ট আর বাবার হাহাকার দূর করে এখন বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন আবু সায়েম। পরিবারে তিনিই এখন সবার ভরসা।

 

ঢাকা, ১৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।