প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে আতিকের পথচলার গল্প


Published: 2017-07-25 21:59:57 BdST, Updated: 2017-09-24 12:45:52 BdST


মেহেদী জামান লিজন, জাককানইবি: সচেতনতার অভাবে আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের এখনো অনেকে বোঝা মনে করে আবার অনেকে জ্ঞানের অজ্ঞতায় ভাবে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিরা অভিশাপ। তাদের দ্বারা হয়তো কোন ভাল কিছু করা কিংবা সমাজে অবদান রাখার মতো তেমন কোন সামর্থ্য নেই, আমাদের ঘুনে ধরা সমাজটাতে এসব ধারনা নেহাতই অল্প নয়। আমরা যখন আমাদের বাহ্যিক দৃষ্টিতে না দেখে অন্তরদৃষ্টিতে একজন প্রতিভাবান প্রতিবন্ধীকে বিবেচনা করি তখন আমরা খুব সহজেই দেখতে পাই তারা স্বাভাবিক আর দশজনের চেয়ে সমাজের জন্যে অনেক বেশি ইতিবাচক। আমরা আমাদের এসব প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের মেধা বিকাশে সাহায্য করলে তারা অনেক বেশি এগিয়ে গিয়ে সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে ভুমিকা রাখবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। প্রতিবন্ধীরা যে সুযোগ পেলে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে তারই জ্বলন্ত প্রমাণ শারিরীক প্রতিবন্ধী আতিকুল ইসলাম আতিক।

সমাজের অন্যান্য মানুষের মত হয়ত সম্পূর্ন না আতিক; কিন্তু অসম্পূর্ন হয়েও থামাতে পারেনি তাকে কেউ। মনোবল আর সাহস যাঁর সঙ্গী, তাঁকে ঠেকায় কার সাধ্য! আতিকের কাছে পরাস্ত হয়েছে সব বাঁধা।

এক সময়ে অজঁপাড়া গ্রামে সকলের কাছে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যর শিকার হওয়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের একজন গ্র্যাজুয়েট। ছোটবেলা গাঁয়ের সকলেই তাকে নিয়ে অবহেলার হাসি ঠাট্টায় মেতে থাকতো। নিজের মেধার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এবং তার বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় ২০০৮ সালে কাটাখালী হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে ভর্তি হয় কখনো থেমে থাকেনি আতিক। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে মেধা তালিকায় ৩৬তম হয়ে ভর্তি হয়েছেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তে।

ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার কাটাখালী (ধানীখলা) গ্রামে জন্মগ্রহন করেন তিনি। বাবা আব্দুল খালেক ও মা মমতাজ বেগমের ৮ম  সন্তান তিনি। ৬ বোন আর ৪ ভাইয়ের মধ্যে তার অবস্থান ৪র্থ।তারা দুই ভাই যমজ। শারিরীকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যখন তার আগমন সকলেই ভাবতো তাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না। তাদের সকলের ধ্যান ধারনাকে পাল্টে দিয়ে তিনি বিবিএ প্রথম শ্রেণীতে শেষ করেছেন এবং এমবিএ তে অধ্যয়নরত আছে। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি বির্তক, ক্রীড়া, কবিতা আবৃতি, গান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থাপনায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কারও জেতেন। স্কুল আবৃতিতে প্রথম স্থান অর্জন, এবং  বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিজ বিভাগে উপস্থিত বক্তৃতায় বিভিন্ন সময় প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এছাড়া সাংগঠনিক ভাবে তিনি সৎসঙ্গ নামে একটি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আছেন যেখানে প্রায় ১০০-২০০ ছেলে মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। আতিক স্বীয় মেধায় জাককানইবিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কিছু করতে চান।

আতিক তার পড়ালেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চান। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কোন সংগঠন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকায় প্রতিবন্ধীরা তাদের অধিকার আদায়ে ব্যার্থ তাই তিনি বলেন, সে সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করে অবদান রাখতে চান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অসহায় দুঃস্থ অভাবী প্রতিবন্ধীদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সকল ধরনের সাহায়তা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার প্রত্যাশা আতিকের।

সবশেষে তাকে তাঁর স্বপ্নের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি সহজ সাবলীল ভাষায় উত্তর দেন, সরকারী চাকুরি করবো। বহুপ্রতিভাবান আতিক নিজেকে একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা (এডমিন)  হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করেন। তার স্বপ্ন সে বিসিএস দিয়ে এডমিন ক্যাডারে চাকুরী করবেন। তাই সে দিনরাত সেই পথেই হাটছেন।

 

ঢাকা, ২৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।