বিস্ময় বালক : ৮ বছরে অষ্টম, ১৩ বছরে এইচএসসি!


Published: 2017-07-28 14:03:12 BdST, Updated: 2017-10-20 12:52:46 BdST

কুমিল্লা লাইভ : মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই মেধা আর যোগ্যতায় তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সে। ‘পাঁচ বছরের সব জান্তা রাতুল’ এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বিস্ময় বালক রাতুল। মাত্র ৮ বছর বয়সে ওই বালক অষ্টম শ্রেণি পাশ করেন। ২০১৫ সালে সে এএসসি পাস করেন। ধারাবাহিকভাবে এবার ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষা পাস করেছে সেই বিস্ময় বালক রাতুল আলম। তাই স্বভাবতই আবারও সংবাদের শিরোনামে সেই বালক।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে আবারও তাক লাগিয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার রাতুল আলম। এই বালকই প্রথম বাংলাদেশী যে দেশীয় কারিকুলামে পড়াশোনা করে মাত্র ১৩ বছর বয়সে এইচএসসি পাশ করেছে।


চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল বিপর্যয়ে পিছিয়ে নেই চান্দিনা উপজেলা সদরের প্রধান দুইটি প্রতিষ্ঠান। চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ থেকে মাত্র ২৪ শতাংশ হারে শিক্ষার্থীরা পাশ করলেও সেখানে সাফল্য দেখিয়েছে রাতুল। বিজ্ঞান বিভাগে একমাত্র পাশ করেছে রাতুল আলম। ওই কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে নিয়মিত ১৫জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করলেও রাতুল ৪.০৮ পেয়ে পাশ করে।

রাতুল আলম চান্দিনা উপজেলা সদরের হাসপাতাল রোডের ডা. মোর্সেদ আলম ও মাতা নাছরিন আলম এর বড় ছেলে। ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারী জন্ম নেয় রাতুল। ২০০৯ সালে মাত্র ৫ বছর বয়সে মা-বাবা কোলে থেকেই পঞ্চম শ্রেণীর লেখাপড়া শেষ করে ওই শিশু।

যে বয়সে শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু হয় সেই বয়সে ডা. মোর্সেদ আলম ও তার স্ত্রী ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি করতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ঘুরে বেড়ান। রাতুলের কাছ থেকে শিক্ষকদের সকল প্রশ্নের উত্তর মিললেও সরকারি বিধি না থাকায় ২০১০ সালে ৬ বছর বয়সে পঞ্চম শ্রেণীতে তাকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি।

২০১১ সালে পাশ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ভয়েজার ইংলিশ মিডিয়াম নামের একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ওই বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাশ করে রাতুল।

২০১২ সালে চান্দিনার কেরনখাল উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ওই বছর জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষায় পাশ করে ২০১৩ সালে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয় সে।

ওই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ১১ বছর বয়সে একই স্কুল থেকে ‘এ গ্রেড’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় শিশু রাতুল।

২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষে চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজে ভর্তি হয়ে ২০১৭ সালে ওই কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৫জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করলেও একমাত্র রাতুল ছাড়া আর কেউ পাশ করেননি।

তবে জিপিএ-৫ না পাওয়ায় হতাশ রাতুল। নির্ধারিত পয়েন্ট না থাকায় মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। এ নিয়ে সরকারের শিক্ষা পদ্ধতিকে দায়ী করেন তার অভিভাবক।

রাতুল এর মা নাছরিন আলম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে যায়নি রাতুল। ছোট বেলায় যখন তার মুখে কথা ফুটেছে সে থেকে পড়ালেখা শুরু হয় তার। মাত্র ৫ বছর বয়সেই সে পঞ্চম শ্রেণীর ইংরেজী, গণিত থেকে শুরু করে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন করে। তাই ২০১০ সালে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি করতে চেয়েছিলাম তাকে। কিন্তু কোন বিদ্যালয়ই তাকে ভর্তি নেয়নি। অবশেষে বেলাশহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভর্তি করানোর জন্য আশ্বাস দিলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি চেয়েছিলেন। এ দেশের শিক্ষা পদ্ধতিতে ৬ বছরের নিচে কোন শিশুকে প্রথম শ্রেণীতেই ভর্তি করা সম্ভব না বিধায় চান্দিনার ইউএনও রাতুলকে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির অনুমতি দেয়নি। বাধ্য হয়ে পরের বছর দাউদকান্দি উপজেলা থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি করাই।

২০১২ সালের মধ্যে সে অষ্টম শ্রেণীর সিলেবাস সমাপ্ত হলে ওই বছর তাকে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি করাই। সে বছর জেএসসি পাশ করে আর থেমে থাকতে হয়নি তার। ২০১৫ সালে এসএসসি ও ২০১৭ সালে এইচএসসি পাশ করে রাতুল আলম। আমার ছেলে মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং যে কোন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করলে পারলে অবশ্যই চান্স পাবে। কিন্তু সরকারের পয়েন্ট ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতিতে আবেদন করারই কোন সুযোগ নেই। যার ফলে বদলে যাচ্ছে তার স্বপ্ন।


ঢাকা, ২৮ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।